মো: আজগর আলী, ফটিকছড়ি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আগাম শীতের সবজির ফলনে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। উপজেলার হাটবাজারগুলোতে ইতোমধ্যে টাটকা শাকসবজির সরবরাহ বেড়েছে, দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতার নাগালের মধ্যে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফটিকছড়ির প্রায় ৬ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে, এতে ১২ হাজারের বেশি কৃষক সরাসরি যুক্ত। কৃষি প্রণোদনার আওতায় ১,১০০ গরিব কৃষককে আর্থিক সহায়তা, ৩৫০ জনকে উন্নত জাতের বীজ এবং ৭৫০ জনকে বীজ-সার প্রদান করা হয়েছে।
এ বছর অনুকূল আবহাওয়া, জমির উর্বরতা ও কৃষি অফিসের পরামর্শে সবজির ফলন বিগত বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শনিবার (১ নভেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সীম, টমেটো, বেগুন, কপি, লাউ, শসা, লালশাক, চিচিঙ্গা, ঢেঁঢশ, মুলা, করোলা ও ধনিয়া পাতাসহ মৌসুমী সবজির বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
কৃষিবিদদের মতে, ফটিকছড়ির মাটির গুণগত মান ও ভৌগোলিক অবস্থান সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার ‘বাহুবলি’, ‘হিরো প্লাস’ ও ‘বর্ণালী’ জাতের টমেটো, ‘ছোলঝার’ ও ‘গ্রীনবল’ বেগুন, এবং ‘স্নো হোয়াইট’ জাতের কপি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
এছাড়া বাংলাদেশের একমাত্র ‘নাদির মুলা’ উৎপাদিত হয় ফটিকছড়ির হালদা নদীর তীরে। এখানকার বালুচরের মিষ্টি আলুও স্বাদে অনন্য।
সবজি উৎপাদনে শীর্ষ অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঞ্চননগর, নাজিরহাট, খীরাম, হারুয়ালছড়ি, বাগানবাজার, দাঁতমারা ও গুলিয়াছড়ি।
স্থানীয় কৃষক পূর্ণচন্দ্র নাথ জানান, এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসের সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেয়েছি। লালশাক বিক্রি করে ভালো মুনাফা পেয়েছি।
কৃষক ওসমান গণি বলেন, ঝড়-বৃষ্টি না থাকায় ফসলের ক্ষতি হয়নি, তাই এ বছর ভালো লাভের আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক জানান, এখন পর্যন্ত শীতকালীন সবজির অবস্থা খুবই সন্তোষজনক। কৃষকদের প্রণোদনা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে— বরবটি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, পটল ৪০ টাকা কেজি দরে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই বর্তমান বাজারদরে সন্তুষ্ট।
ফলস্বরূপ, ফটিকছড়ির কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হচ্ছেন এ মৌসুমে।
এসএস
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।