আজগর আলী, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারায় আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শফিউল আলম (শফিকুল আলম) নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। লাইসেন্স, গোডাউন ও বিক্রয়কেন্দ্রের ঠিকানায় অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষিকা।
অভিযোগকারী ছায়েরা বেগম অভিযোগপত্রে বলেন, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী তার বসতবাড়ির পাশেই জনবহুল এলাকায় বিপুল পরিমাণ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আশপাশে অসংখ্য বসতবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের চলাচল থাকায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, হেয়াকো বাজারসংলগ্ন আবাসিক এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার সংরক্ষণ জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, হেয়াকো বাজার এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরক আইনের বিধি-বিধান না মেনে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া বিস্ফোরক লাইসেন্সে বটতলী এলাকার ঠিকানা থাকলেও ট্রেড লাইসেন্সে হেয়াকোর ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্সের ঠিকানা, গোডাউন ও বিক্রয়কেন্দ্র তিনটি ভিন্ন স্থানে হওয়ায় বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাজার ও আবাসিক এলাকার মধ্যে বিস্ফোরক পণ্য মজুদ থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযুক্ত শফিউল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এ ধরনের কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। লাইসেন্সের ঠিকানার বিষয়ে তিনি বলেন, যেখানে আমার বিস্ফোরক লাইসেন্স রয়েছে, সেখানে এখনো ব্যবসা শুরু করতে পারিনি।
এ বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআই/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।