চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির-সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার নামে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ফটিকছড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন শিকদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আবু জাফর, ফটিকছড়ি পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতা রেজাউল করিম, পৌর জামায়াতের নেতা কাজী মোহাম্মদ লোকমান, মোহাম্মদ রায়হান ও মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে ওই মামলায় আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং জামায়াতের প্রার্থীর করা একটি মামলার সমালোচনা করায় বাদীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এজাহার মামলা বাদী বলেন , গত ২০ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একদল ব্যক্তি বাদীর ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে জোর করে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু জানান, বাদী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়। কাউকে অপহরণ, আটকে রাখা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু'র নেতৃত্বে অভিযুক্তরা উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে তাকে মারধর করেন এবং ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন। পরে চোখ বেঁধে অপরিচিত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জামায়াতের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে হত্যা ও অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আলম বলেন, ফটিকছড়িতে জামায়াতের ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থ কার্যক্রম চলমান আছে।
এসআই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।