ফটিকছড়িতে শান্তি-শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।
সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ফটিকছড়ির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তারা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি ফটিকছড়ির শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ফটিকছড়ির উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
আবু তৈয়ব তার বক্তব্যে জামায়াত ও বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, এসব দলের নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।
তবে তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফটিকছড়ি পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হায়দার রাসেল বলেন, “টিপু হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হোসেন মোহাম্মদ আবু তৈয়বের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যকর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় আবু তৈয়ব বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বিদেশে অবস্থান করে স্থানীয় তরুণদের মাঠে নামিয়ে দিয়ে হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দেওয়া রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাসেল আরও বলেন, “যদি সত্যিই জনগণের প্রতি তাঁর আস্থা ও সমর্থন থাকে, তাহলে বিদেশে অবস্থান না করে দেশে ফিরে এসে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস দেখানো উচিত।”
এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কয়েকজন জামায়াত নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আবু তৈয়ব ও তার সহযোগীরা নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ৫ আগস্টের পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জননেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। সত্যিই যদি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে ফটিকছড়িতে ফিরে আসুন। আমরা দীর্ঘ সময় নির্যাতনের শিকার হলেও এলাকা ছেড়ে যাইনি।”
উল্লেখ্য, হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।