দক্ষিণ পূর্ব

ফটিকছড়ির ইউএনওকে বদলি করতে ডিসিকে হেফাজত আমীরের চিঠি!

sathi
প্রকাশ : ৭ মার্চ ২০২৫
পঠিত :
ফটিকছড়ির ইউএনওকে বদলি করতে ডিসিকে হেফাজত আমীরের চিঠি!
বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে বদলি করতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। ফটিকছড়ির ধর্মপুরে অবস্থিত আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া আজাদী বাজার মাদ্রাসার প্যাডে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এই চিঠিতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।

জেলা প্রশাসককে দেওয়া ওই চিঠি এই প্রতিবেদকের  হাতে এসেছে। চিঠির শুরুতে বলা হয়েছে, আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, আমি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িস্থ 'আল জামিয়া ইসলামিয়া আজাদী বাজার মাদ্রাসা' ছদরে মুহতামিম, অর্থাৎ মজলিশে শুরার সভাপতি। এই মাদ্রাসার শুরা সভা নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক নাটকীয়তা করা হয়েছে। চার দিনের সময় নেওয়ায় আপনার অনুরোধে আমি প্রথমে শুরা সভা স্থগিত করি। কিন্তু তা আপনি পালন করতে পারেননি। এর বহুদিন পর আপনি ফটিকছড়ি'র ইউএনও মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন শুরা সভা আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু তিনি শুরা সভার প্রতিবন্ধকতাকারীদের সাথে গোপন যোগসাজসে লিখিত চিঠি দিয়ে ফটিকছড়ি সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আমাকে জড়িয়ে (১৩/২০২৫) মামলা আনায়নের সুযোগ করে দেন। 

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মামলা করায় আমার এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এরপর আমি শুরা সভা ডাকলে তিনি আমার শুরা সদস্যদের যাওয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে 'জামায়াত-শিবির' আক্রমণ করবে মর্মে খবর পাঠায়। তার চরম অসহযোগিতার কারণে আমাকে আজাদী বাজার মাদ্রাসার শুরা সভা আমার বাবুনগর মাদ্রাসায় করতে হয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্ট আমার অনেক আপন লোকজনকে তিনি নানাভাবে হয়রানি করছে বলে আমি শুনেছি। 

চিঠিতে বলা হয়, ফটিকছড়ির ইউএনও মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক সময় ছাত্রলীগ করতেন এবং বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের সরাসরি দোষর। ইতিমধ্যে পুরো ফটিকছড়িতে তার নির্লিপ্তায় শত শত জায়গায় অবৈধ বালি মহাল এবং রাত হলেই মাটি লুটপাট চলছে। আমার কাছে খবর আছে, তিনি জামায়াতের লোকজনকে হাত করে এখানে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। এজন্য আপনার কাছে অনুরোধ আপনি তাকে তরিৎ বদলী করে নিয়ে যান এবং সাথে সাথে একজন ভাল ইউএনও নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমরা তাকে আর এক মুহুর্তও চাইনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে  হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয় উপ দপ্তর সম্পাদক ও আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ভাতিজা মোহাম্মদ বাবুনগরী  বলেন, ফটিকছড়ির ইউএনও মোজাম্মেল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বালু উত্তোলনসহ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে হেফাজতের আমির জানেন না। কে বা কারা ওনার স্বাক্ষর নিয়ে ফেলেছেন। বিষয়টি দেখতে হবে। ডিসির কাছে আমীর সরাসরি এমন কোনো আবেদন করেননি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,' এ রকম একটা চিঠির কথা কিছুক্ষণ আগেই জানলাম। তবে সেই চিঠিতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। আর উনি এমন অভিযোগ করবেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। আমার সাথে উনি এবং ওনার পরিবারের চমৎকার সম্পর্ক। আর উনি যদি আসলেই এমন অভিযোগ করেন, তাহলে সেটা আমার জন্য  খুব বিব্রতকর। '

ইউএনও বলেন, আজাদী বাজার মাদ্রাসার যে বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে, সেটাতে আমি শুধু আমার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করেছি। সেখানে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। আর সেখানে শুধুমাত্র আমার প্রসঙ্গ আসছে কেন, তা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়।

ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বিষয়টি একেবারেই হাস্যকর। আমি ছাত্রলীগ তো দূরের কথা, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথেই জড়িত ছিলাম না। চুয়েটে আমার সহপাঠী যারা আছেন, আপনি তাদের কাছ থেকে খোঁজখবর নিতে পারেন।'

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।