দক্ষিণ পূর্ব

ফটিকছড়ির ওসিকে শ্রমিক কল্যাণ নেতার হুমকির অভিযোগ নিয়ে যা জানা গেলো

sathi
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৫
পঠিত :
ফটিকছড়ির ওসিকে শ্রমিক কল্যাণ নেতার হুমকির অভিযোগ নিয়ে যা জানা গেলো
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

ফটিকছড়ি পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন রুবেলের বিরুদ্ধে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।একটি পক্ষ শ্রমিক কল্যাণের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এ অপপ্রচার চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জামায়াত সমর্থিত এই সংগঠন।একইসাথে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এই নেতাকে ঠুনকো বিষয়ে গ্রেপ্তার করে তড়িৎ গতিতে আদালতে পাঠানোকেও বৈরি আচরণ বলে দাবি করা হয়।

আজ (২৯ জুন) সংগঠনটির ফটিকছড়ি থানা শাখার পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।এরআগে শ্রমিক কল্যাণ নেতা গিয়াস উদ্দিন রুবেল ফটিকছড়ি থানার ওসিকে হুমকি দিয়েছেন বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। 

ফটিকছড়ি থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি গাজী মোঃ বেলাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়,  প্রকৃত ঘটনা হলো শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফটিকছড়ি পৌরসভার সভাপতি ইব্রাহিম খলিলকে ফটিকছড়ি থানা থেকে ফোনে জানানো  হয়েছিলো আপনার হারানো মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে ইব্রাহিম খলিল থানায় গেলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তাৎক্ষণিক তাঁর গ্রেফতারের খবর  ছড়িয়ে পড়লে ফটিকছড়ি পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রুবেল ও ইব্রাহিম খলিলের কয়েকজন স্বজন থানায় উপস্থিত হন। এসময় তারা ইব্রাহিম খলিলকে কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানতে চান পুলিশ কর্মকর্তার কাছে।এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে ইব্রাহীম খলীলের নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে জানানো হয়। অথচ বিষয়টি তাঁর পরিবার ও সংগঠন অবগত নয়। 

গাজী মোঃ বেলাল উদ্দিন বলেন, কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে। আমরা দেশের আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা  প্রদর্শন করি। ফটিকছড়িতে প্রায় তিন হাজার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আছে। অসংখ্য অস্ত্র মামলার আসামি মহড়া দিচ্ছে। চিহ্নিত আওয়ামী লীগের দোসররা থানার আশপাশে ঘুরঘুর করছে। এসবের পরও ঠুনকো অযুহাতে ইব্রাহিম খলিলকে ভুল তথ্য দিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ইব্রাহিম খলিল একজন ব্যবসায়ি ও শ্রমিক নেতা। তাঁর সাথে এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে আমরা মর্মাহত। বিষয়টি ইব্রাহিম খলিলের ব্যক্তিগত বিষয় হলেও  শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে জড়িয়ে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ভুল অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রচার করায় আমরা এর  তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খলিল জানান, তার মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে খবর পেয়ে তিনি থানায় পৌঁছালে থানার ওসি নুর আহমদ ও পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে লাঞ্ছিত ও অপমান করে। একপর্যায়ে তারা তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। যা রহস্যজনক হিসেবে দেখছে তার সংগঠন। তার এক আত্মীয়ের নেওয়া লোন পরিশোধ না করায় জিম্মাদার হিসেবে তাকে মামলার আসামি করে ওই ব্যাংক। যা তিনি মোটেও জানতেন না। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

 তিনি আরও জানান, ওসিকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন রুবেল কোন হুমকি দেননি। তিনি শুধু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে থানার কাজে আমার সহযোগিতা এবং নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।আর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অনুরোধ করেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগষ্ট  ক্ষুব্ধ ফটিকছড়িবাসী থানা জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিলো। ওই পরিস্থিতি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা ইব্রাহিম খলিলসহ অন্যান্যরা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে জামায়াত নেতারা সেদিন অসাধারণ ভূমিকা রাখেন৷ 

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি থানার ওসি নুর আহমদ বলেন,একজনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে।আর আইন আইনের গতিতে চলবে। তিনি যেই  হউক না কেন। 

এম 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।