বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে নেমেছিলেন মাহিদুল ইসলাম (১৮)। ম্যাচ জয়ের আনন্দে উল্লাস করতে গিয়ে মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। গোলপোস্টের লোহার বার ধরে ঝুলতে গেলে সেটি উপড়ে তাঁর বুকের ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানার বেগমজান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কোনোপদিয়া গ্রামের রাসেল গাজীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কলসির দীঘির পাড় এলাকায় দুলাভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং রংমিস্ত্রির কাজ করতেন।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে যান মাহিদুল। খেলা শেষে তাঁদের দল বিজয়ী হলে সবাই আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। একপর্যায়ে মাহিদুল গোলপোস্টের ওপরের লোহার বার ধরে ঝুলে উল্লাস প্রকাশ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ গোলপোস্টটি তাঁর ওজন সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ভারী লোহার বারটি সরাসরি তাঁর বুকের ওপর আছড়ে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর তাঁর দুলাভাই মো. রবিউল ও খালাতো ভাই মোহাম্মদ মনির দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দুলাভাই মো. রবিউল বলেন, “খেলা জয়ের আনন্দেই সবাই উল্লাস করছিল। কে জানত সেই আনন্দই মাহিদুলের জীবনের শেষ মুহূর্ত হয়ে উঠবে।”
খালাতো ভাই মোহাম্মদ মনির বলেন, “এমন দুর্ঘটনার কথা আমরা কল্পনাও করিনি। কয়েক মুহূর্তের আনন্দ পুরো পরিবারকে আজীবনের শোক দিয়ে গেল।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিদুলকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।