দক্ষিণ পূর্ব

বাঁশখালীতে খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মা-মেয়েকে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলা

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৬ দুপুর
পঠিত : ৪
বাঁশখালীতে খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মা-মেয়েকে কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলা

হামলার চিহ্ন ও হামলাকারী

Degchibarictg

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। 

 

তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মামলা না করতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহতরা হলেন ময়রা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। চিকিৎসকরা ময়রা খাতুনের মাথায় চারটি এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় সাতটি সেলাই দিয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে স্থানীয় যুবক রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলামের গ্রুপের এক সদস্যের কথাকাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর থেকেই মোরশেদুল ইসলাম রাকিবকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

 

এর জেরে মঙ্গলবার সকালে মোরশেদুল ইসলাম ও তার ভাই মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল রাকিবের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিবেশীরা রাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ময়রা খাতুন, তার মেয়ে রাবিয়া খাতুনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। মা-মেয়ের মাথা, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

 

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে তাদের চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন। তার বাবা জাকের হোসেনের বিরুদ্ধেও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

 

আহত ময়রা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, 'আমার মা ও বোন কারও কোনো ক্ষতি করেননি। প্রতিবেশীকে হামলা থেকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের অপরাধ। এজন্য তাদের দা-কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আমরা অসহায় মানুষ। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।'

 

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে বিষয়টি থানাকে জানানো হলেও মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাবিবের বক্তব্য জানতে  চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

 

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হককে ফোন করা হলে না ধরায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।