বাঁশখালী প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের শঙ্খ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। অভিযোগ রয়েছে পশ্চিম ও উত্তর পুকুরিয়া এলাকার তেচ্ছিপাড়া ও কুমারখালী গ্রামসংলগ্ন নদী অংশে স্থানীয় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নেতৃত্বে ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত বালু তোলা হচ্ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তেচ্ছিপাড়ার মৃত এয়াকুব নবীর ছেলে ও ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ছগীরসহ মো. সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ ডাকাত, মো. আছলাম ওরফে ডাকাত আছলাম, আবদুল কাদের, বেদার আহমদ ওরফে বেদার ডাকাত, মাহমুদুল হক এবং মোহাম্মদ ইসমাইল। তাদের সবাই স্থানীয়ভাবে বিএনপি–ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
অবৈধভাবে নদী খননের কারণে দুই তীরের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে। একই সঙ্গে ড্রেজারের শব্দে এলাকাবাসীর রাত্রিযাপন ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পশ্চিম পুকুরিয়া এলাকার নদী তীর থেকে পটিয়ার শোভনদন্ডীর মো. এরশাদের মালিকানাধীন দুটি ড্রেজার জব্দ এবং চারজনকে আটক করা হয়। বাল্কহেড দিয়ে নদীর তলদেশ কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল-যা বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০–এর ৫(১) ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানি আকন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। আজ দুটি ড্রেজার জব্দ ও চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় এ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
জব্দ করা ড্রেজার দুটি স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, রিদওয়ানুল করিমসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
রহা
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।