দক্ষিণ পূর্ব

বাকলিয়া শিশু ধর্ষণ: ২৮ দিনের মধ্যে রায়ে আসামি মনিরের যাবজ্জীবন

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬
পঠিত :
বাকলিয়া শিশু ধর্ষণ: ২৮ দিনের মধ্যে রায়ে আসামি মনিরের যাবজ্জীবন

ছবি : দক্ষিণপূর্ব

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটায় ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

বুধবার চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘটনার মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ সব কার্যক্রম পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত মনির হোসেন (৩২) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের মিয়াখান নগর এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। তবে তাকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। পুলিশের একটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

 

ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

পরদিন আদালতে হাজির করা হলে মনির হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে গত ৪ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল।

 

গত ৯ জুন আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিন কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সোমবার আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।

 

মঙ্গলবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরদিন আদালত রায় ঘোষণা করেন।

 

আর এইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।