দক্ষিণ পূর্ব

বাজির নামে ‘বোমা’ বিক্রি, চোখ ‘বন্ধ’ পুলিশের

দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
পঠিত :
বাজির নামে ‘বোমা’ বিক্রি, চোখ ‘বন্ধ’ পুলিশের

'আতশবাজি লাইবু না মামু? বুমের মতো ফুডিবু। পাইকারি দরে দিয়্যুম, ইক্কে আইয়্যুন মামু’।

নগরের বক্সিরহাটে প্রবেশ করতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এভাবেই হাঁক-ডাক দিয়ে আতশবাজি কেনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন এক ব্যবসায়ী। দোকানের সামনে ঝুলিয়ে এবং থাকে থাকে সাজিয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ‘নিষিদ্ধ’ এসব আতশবাজি, পটকা ও ফানুস। দেশে বিদ্যমান আইনে বিস্ফোরকদ্রব্য বহন, আমদানি ও ক্রয় করা নিষেধ থাকলেও নগরজুড়ে হাতের নাগালেই মিলছে এসব পণ্য। 

অন্যদিকে, প্রতিবছরের মতো থার্ট ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি-পটকা না ফুটানো এবং ফানুস না উড়ানোর অনুরোধসহ নগরবাসীর প্রতি ১৩টি নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি)। তবে কেবল ‘নিষিদ্ধ ঘোষণাতেই’ সীমাবদ্ধ নগর পুলিশের এই কার্যক্রম। প্রতিবারই পুলিশের এই নির্দেশনার পরেও বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ছাদ এবং সড়ক-অলিগলিতে এই ‘শব্দবোমা’র ব্যবহার দেখা যায়। এর বিকট শব্দ আতঙ্ক ছড়ায় শিশু, বয়ষ্ক এবং পশু-পাখিদের মধ্যে।

সমাজের সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গা ছাড়া ভাব এবং উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব বিক্রি করছেন।

পুলিশ বলছে, নগরবাসী সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে আতশবাজি বিক্রি কিংবা ব্যবহার থামানো সম্ভব নয়। জনগণের দায়িত্ব তাদের নির্দেশনা মান্য করা। তবে যেসব জায়গায় আতশবাজি বিক্রি হচ্ছে খোঁজ নিয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

পুলিশের গ্যারান্টি, ধরতেই পারবে না’

সরেজমিনে সোমবার নগরের কোতোয়ালী থানার বক্সিরহাট এলাকার কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, থার্টি ফার্স্ট নাইটের আনন্দ উল্লাসের অংশ হিসেবে আতশবাজি ও পটকা প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে প্রায় দোকানে। কোনো রাখঢাক তো নেই—উল্টো গ্যারান্টি দিয়ে বিক্রেতারা বলছেন, ‘পুলিশ সমস্যা করবে না’। কিশোর-তরুণদের পাশাপাশি প্রাপ্ত বয়স্করাও আতশবাজি-পটকা কিনতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। 

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বক্সিরহাট বদরপাতি রোডে যেতেই বাজি লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করে এ প্রতিবেদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দোকানটির কোনো সাইনবোর্ড চোখে না পরলেও বিক্রেতার নাম শহীদ বলে জানা যায়। 

ক্রেতা সেজে দোকানটিতে প্রবেশ করা মাত্র বিভিন্ন রকমের বাজির ফিরিস্তি তুলে ধরেন তিনি। ওই বিক্রেতা বলেন, ‘আমার চেয়ে বেশি বাজি বক্সিরহাটে কেউ বিক্রি করে না। আপনি যেমন চাইবেন সবরকমের দেওয়া যাবে। ২০ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দামের বাজি আছে আমার কাছে। বোমার চাইতেও বেশি আওয়াজ হবে। আর তিন রঙের আলো হবে।’

কোত্থেকে এসব আনেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ভারতীয় বাজি। ঝর্ণা বাজি, রকেট বাজি, আইপিএল বাজি, তারাবাতি, জরি বাজি, আকাশ রকেট—এমন অনেক রকমের আতশবাজি এবং পটকা আছে আমার দোকানে।’

নেওয়ার সময় পুলিশ ধরবে কিনা—জানতে চাইলে তিনি অট্টহাসি ছেড়ে বলেন, ‘গ্যারান্টি দিয়ে দিব, পুলিশ ধরবে না। এখানে সব দোকানেই তো বিক্রি হচ্ছে। আমরা বিক্রি করিতো প্রতিদিন।’

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।