দক্ষিণ পূর্ব

বাকলিয়ায় ডাবল মার্ডারের নেপথ্যে বালু মহাল দখল, নিহতরা সন্ত্রাসী সরোয়ারের অনুসারী

sathi
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৫
পঠিত :
বাকলিয়ায় ডাবল মার্ডারের নেপথ্যে বালু মহাল দখল, নিহতরা সন্ত্রাসী সরোয়ারের অনুসারী
 নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার এক্সেস রোড়ে ফিল্মি স্টাইলে একটি প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়েছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। এতে ২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ২ জন। আহত অবস্থায় পালিয়ে গেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা। টার্গেট প্রাইভেটকারটিও গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঈদের ১ দিন আগে এমন ঘটনায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।

শনিবার (২৯ মার্চ) রাত পৌনে ৩টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন এক্সেস রোড এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। 

নিহতদের সবাই  নগরীর অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার বাবলার কর্মী।সন্ত্রাসী বাবলা বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত।আর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতরা রাউজান-রাঙ্গুনিয়া কেন্দ্রিক সন্ত্রাসী  খোরশেদ , হাসান ও রায়হানের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের কর্মী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যরাত থেকেই শাহ আমানত সেতু এলাকায় বালুর মহালকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের সদস্যরা অবস্থান নেয়। সারোয়ার বাবলা  ছয়জনের একটি দল নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে ছিল, অন্যদিকে খোরশেদ হাসানের গ্রুপ মোটরসাইকেলে করে ভারী অস্ত্র নিয়ে তাদের পিছু নেয়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘‘আমি তখন কয়েকজন বন্ধুসহ চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি, মোটরসাইকেলে আসা তিনজন এক প্রাইভেটকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। পাশে থাকা পুলিশের টহল গাড়ি কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমরা আতঙ্কিত হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ি। পরে দেখি, দুজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, আর গাড়ির চালকের আসনে রক্ত ছড়িয়ে আছে।’’

এই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আবদুল্লাহ ও মানিক। আহত রবিন ও আরেকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের একজনের পায়ে, অন্যজনের হাতে গুলি লেগেছে, তবে দুজনেই শঙ্কামুক্ত।নিহত মানিক সন্ত্রাসী বাবলার গাড়িচালক। 

এদিকে আরেকটা সূত্র জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে শীর্ষ সন্ত্রাসী 'বড়' সাজ্জাদও জড়িত।সম্প্রতি বড় সাজ্জাদের অনুসারী ছোট সাজ্জাদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।ওই  গ্রেফতারে  সরোয়ার বাবলা পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বলে কথিত আছে।সেই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।এছাড়া নতুন ব্রিজ এলাকায় একটি বিরোধপূর্ণ জায়গার দখল নিয়ে নগর বিএনপির সাবেক এক শীর্ষ নেতার অনুসারী বলে পরিচয় দেয়া ছাত্রদলের এক সহ সম্পাদক এই হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছে।

 নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘বালুর মহালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী সারোয়ার বাবলার সঙ্গে খোরশেদ, রায়হান ও হাসানের গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল। শনিবার রাতে বাবলার গ্রুপ প্রাইভেটকারে ছিল, আর খোরশেদ গ্রুপ মোটরসাইকেলে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশ টহল গাড়ি দেখে বাবলা গ্রুপের একজন সাহায্য চাইতে যায়, কিন্তু তখনই প্রতিপক্ষ এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যায়।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘গোলাগুলির পর আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছি। বিশেষ করে হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’’


প্রসঙ্গত  সারোয়ার বাবলা চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের পরিচিত নাম। একসময় কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। সাজ্জাদের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত বাবলা নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খোন্দকার পাড়ার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। চার বছর কারাভোগের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। ২০২০ সালে দেশে ফিরেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে বের হয়ে আবারও পুরোনো অপরাধের জগতে ফিরে যান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।কিন্তু জামিনে বেরিয়ে ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।