দক্ষিণ পূর্ব

বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, চমেকে চালু হচ্ছে ৩০ শয্যার ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ইউনিট

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট, চমেকে চালু হচ্ছে ৩০ শয্যার ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ইউনিট

ছবি

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় জুন মাসেই সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে ১২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অথচ জানুয়ারিতে আক্রান্ত ছিলেন ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন এবং মে মাসে ৩৭ জন। অর্থাৎ জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগের কয়েক মাসের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেড়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর তথ্যও নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

 

রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ৩০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও নতুন ইউনিট চালুর মাধ্যমে সব রোগীকে একসঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীদের নতুন ইউনিটে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।

 

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিটটির কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর এবং সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে নগরের আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। দলটির সদস্যদের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই হটস্পট এলাকাগুলোতে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু হবে।

 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত মাস থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি বলেন, নগরের সব ওয়ার্ডেই সারা বছর নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, শুধু ফগিং নয়, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমই বেশি কার্যকর।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।