দক্ষিণ পূর্ব

বিএনপি মহাসচিব পদ থেকে অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
পঠিত :
বিএনপি  মহাসচিব পদ থেকে অবসর নিতে চান মির্জা ফখরুল

ফাইল ছবি

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের হাল ধরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আর মহাসচিব পদে থাকতে চান না।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ক্লান্তি ও অবসাদও তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। তবে কাউন্সিল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চান।

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কাউন্সিলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করার ওপর জোর দিচ্ছে দল।

 

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। মাঝখানের দীর্ঘ সময়ে দেশের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং শীর্ষ নেতাদের কারাবরণসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে নতুন কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় এক বর্ণাঢ্য এবং সংগ্রামী ইতিহাস। ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তার হাতেখড়ি। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কারাবরণও করেন। কর্মজীবনের শুরুতে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য হিসেবে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নব্বইয়ের দশকে বিএনপিতে যোগ দেন।

 

বিএনপিতে মির্জা ফখরুলের প্রভাব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন এবং ২০১১ সাল থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার এই দীর্ঘ মেয়াদে বিএনপি নানা চড়াই-উতরাই পার করেছে। দীর্ঘ সময় দলের মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পর তার এই অবসরের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরেই কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব হিসেবে কে আসছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে কৌতূহল বাড়ছে। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, দলের কাউন্সিল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং সুন্দরভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমেই তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি টানতে চান। তার এই সিদ্ধান্ত বিএনপির আগামীর রাজনৈতিক কৌশল এবং নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।