দক্ষিণ পূর্ব

ভূমধ্যসাগরে খাবার-পানির অভাবে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু

দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
ভূমধ্যসাগরে খাবার-পানির অভাবে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি

ভাগ্য বদলের আশায় অবৈধপথে ইউরোপে পাড়ি জমিয়ে ভূমধ্যসাগরে নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়েছেন ১১ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জেরই আটজন রয়েছেন। লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি ছোট রাবার নৌকা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। এ সময় খাবার ও পানির সংকটে একের পর এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) মিশরের উপকূল থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানান, নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত ঝড়ের কবলে পড়ে সাগরে ভেসে যাওয়ার পর তারা চরম সংকটে পড়েন। পরে গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছালে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে উদ্ধারহীন অবস্থায় সাগরে ভাসতে থাকেন তারা।

 

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির অভাবে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজন মারা যান। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা। পরে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে নৌকাটি। তাদের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে। ঝড়ের পর খাবার ও পানি হারিয়ে ফেলেও তারা যাত্রা অব্যাহত রাখেন। গ্রিসের কাছাকাছি গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

 

টানা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর স্রোতের টানে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। আহত ও অসুস্থ বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছে পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান।’

 

তিনি জানান, দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে অনেকের শরীরে পচন ধরেছে। মিশরের হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশে ফেরার আকুতিও জানিয়েছেন তিনি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আট বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার রহমান; জগন্নাথপুরের বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু ও গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ; শান্তিগঞ্জের পাগলা শত্রুমর্দনের গ্রামের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া, মামুন খাঁন এবং রনসী গ্রামের মো. তালহা।

 

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসা চলছে।

 

দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আটক বাংলাদেশিদের ভ্রমণ অনুমতিপত্রের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

 

এদিকে নিখোঁজদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি। শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এলাকায় কেউ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর যাচাই করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে রাবারের নৌকায় গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় দালালদের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় পৃথক মামলা করা হয়।

এসআই/দক্ষিণপূর্ব

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।