দক্ষিণ পূর্ব

ভোটে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
ভোটে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে শতভাগ নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না—এমনকি তাদের প্রতিনিধির কাছ থেকেও কোনো খাবার গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা শক্ত হাতে দমন করতে বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারে, তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। কিন্তু আস্থা হারালে শক্তি দিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয়—এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবৈধ ও বেআইনি আদেশও মানা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না—এই বিষয়টি কঠোরভাবে মানতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর ০২-৪৭১১৮৭০০ থেকে ০২-৪৭১১৮৭০৩ এবং মোবাইল নম্বর ০১৫৫০-০৬৪২২৬ (হোয়াটসঅ্যাপ) ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭ চালু করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র স্বচ্ছ ও উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা মসৃণ করা, ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন সামগ্রী যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে দ্রুত প্রবেশ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর এইচ/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।