দক্ষিণ পূর্ব

চাঁদার জন্য সাংবাদিকের বাবাকে অপহরণ, মহানগর ছাত্রদল আহ্বায়ককে শোকজ

mainulislam
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৫
পঠিত :
চাঁদার জন্য সাংবাদিকের বাবাকে অপহরণ, মহানগর ছাত্রদল আহ্বায়ককে শোকজ
নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক দৈনিক কালবেলার স্টাফ রিপোর্টার আমজাদ হোসাইন হৃদয়ের বাবা শফিউল আলমকে অপহরণের নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমকে শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। 

গতকাল শনিবার রাতে ওই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও তা আজ রবিবার প্রকাশ্যে আসে। এর আগে শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত নয়টার দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার বিসিক শিল্প এলাকার আজিম গ্রুপের কারখানার সামনে থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতা শফিউল আলমকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার ছেলে সাংবাদিক আমজাদ হোসাইনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। 
শফিউল আলম আজিম গ্রুপের গার্মেন্টেসে সিনিয়র সুপার ভাইজার পদে কর্মরত আছেন।  
অভিযুক্তরা যুবদল নেতা হলেন, মো. সোহেল ও চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুর রহমান আলফাজ। তবে এ ঘটনায় হওয়া মামলায় কেবল সোহেলকে আসামি করা হয়। অভিযুক্তরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। 

মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমকে শোকজ নোটিশে কোন ঘটনার কথা উল্লেখ করা না হলেও বলা হয়েছে মহানগর ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকেও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে কারণ দর্শানো হলো। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ বিষয়ে  উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। 

তবে সাইফুল আলম বলেন, ‘আমি প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে ছাত্রদল নেতা আলফাজের কোনো সম্পৃক্ততা পাইনি। এরপরও এটি অধিকতর তদন্ত করছি। তিনি বলেন, আলফাজের সাথে কথা হলে আলফাজ আমাকে জানিয়েছেন তার সংশ্লিষ্টতা নাই। তার বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। 

সাংবাদিক আমজাদ হোসাইন বলেন, আমার বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরী করেন। চাঁদার জন্য গতকালে রাতে তাকে তুলে নিয়ে যায়। একটি ভুয়া অভিযোগে কয়েকদিন ধরে তাকে বিরক্ত করছিল যুবদল নেতা সোহেল ও ছাত্রদল নেতা আলফাজ। এ বিষয়ে দুদিন আগে কেন্দ্রীয় ও মহানগর ছাত্রদল নেতাদের জানালেও কোন কাজ হয়নি। গতকাল রাতে তারা তুলে নিয়ে চাঁদা দাবি করে। এর আগেও একবার তুলে নিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। বলছে, না পারলে ৮০ হাজার টাকা হলেও তাদেরকে দিতে। আমজাদ হোসাইন তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, এর আগে তার বাবার কাছ থেকে বিএনপির পরিচয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। 
চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন জানান, গতকাল শনিবার রাতে চান্দগাঁও থানাধীন বিসিক শিল্প এলাকা থেকে শফিউল আলমকে অপহরণ করা হয়। পরে একই থানার সিএন্ডবি টেকবাজার রেললাইনের সামনে নামিয়ে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা নিয়ে যায়। 

একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে মারধর ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানালে পরিবার চান্দগাঁও থানায় অবহিত করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে অপহরণকারীরা পুলিশের অবস্থান টের পেরে কয়েকটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি। 

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনেকে অপকর্ম করছে। আমি এবং আমার দলের স্পষ্ট অবস্থান অপরাধীদের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না।

 এম 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।