কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত তেল খালাসের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেনটাল। পাঁচ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ দিতে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি ২২ লাখ ২৭ হাজার ২৭ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়। অনুমোদনের ফলে এসপিএম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে পিটি পারটামিনা ট্রান্সকনটিনেন্টালের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এসপিএম সুবিধা চালু হলে সাগরে ভাসমান বয়ার সঙ্গে জ্বালানি তেলবাহী বড় ট্যাংকার নোঙর করে সেখান থেকেই তা সরাসরি পাইপলাইনে খালাস করা যাবে। পৃথক দুটি পাইপলাইন দিয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং হাইস্পিড ডিজেল যাবে মহেশখালীর পাম্পিং স্টেশন ও ট্যাংক ফার্মে । পরে সেখান থেকে তা চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডসহ (ইআরএল) বিভিন্ন স্থাপনায় নেয়া হবে।
বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও গভীরতাজনিত সীমাবদ্ধতায় জ্বালানি তেলবাহী বড় ট্যাংকার সরাসরি নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। বহির্নোঙরে ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি তেল খালাস করতে গিয়ে সময় ও ব্যয় বাড়ছে। প্রতি লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খালাসে এখন সময় লাগছে ৮ থেকে ১০ দিন।
এ সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এসপিএম প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল সরকার। নথি অনুযায়ী, এসপিএম কার্যকরভাবে চালু করা গেলে এ সময় নেমে আসবে প্রায় দুই দিনে। একইভাবে মাত্র ২৮ ঘণ্টায় ৬০-৭০ হাজার টন ডিজেল খালাস করা সম্ভব হবে।
এসপিএম প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের মার্চে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও ডিজেল স্থানান্তর শুরু হয়। তবে প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় নিয়মিত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়নি। একপর্যায়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মহেশখালীর এসপিএম এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা-উত্তর পতেঙ্গা পর্যন্ত পাইপলাইন পরিচালনায় অপারেটর নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। দরপত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এগুলো হলো ইন্দোনেশিয়ার পিটি পারটামিনা ট্রান্স কনটিনেন্টাল, চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এবং হংকংভিত্তিক হিলং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং (হংকং) লিমিটেড। এতে কারিগরিভাবে যোগ্য এবং আর্থিকভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয় পিটি পারটামিনা ট্রান্স কনটিনেন্টাল।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) তথ্য অনুযায়ী, এসপিএম স্থাপনা এবং এর সমুদ্র ও স্থলভাগের সব সহায়ক ও আনুষঙ্গিক স্থাপনার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামুদ্রিক সেবাও দিতে হবে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানকে। চুক্তি সম্পাদন হলে ৬৪ মাসের জন্য এ দায়িত্ব পাবে ইন্দোনেশীয় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্পটিতে একটি ভাসমান এসপিএম, দুটি সমান্তরাল পাইপলাইন, পাম্পিং স্টেশন, ট্যাংক ফার্ম ও মজুদ সুবিধা রয়েছে। মোট পাইপলাইন নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ২২০ কিলোমিটার।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এসপিএমের মাধ্যমে বছরে বিপিসির কয়েকশো কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে এ ব্যবস্থায় পরিবাহিত অপরিশোধ জ্বালানি তেল ও ডিজেলের পরিমাণের ওপর।
জেএফআই/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।