নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের খুলশীতে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে থানা পুলিশ। আবেদীন আল মামুন নামে ওই নেতা সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালি থানা, জেলার সীতাকুণ্ড থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সেই মামুনকেই হাতের কাছে পেয়েও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী এই আওয়ামী লীগ নেতাকে আইনী সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
গত শুক্রবার (৭ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পশ্চিম ও উত্তর বিভাগ থেকে একইসাথে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের একটি বিষয় ছিল আকবরশাহ এলাকার একটি বাসা থেকে প্যাসিফিক জিন্স নামে একটি পোশাক কারখানার এজিএম আবেদীন আল মামুনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়। সেখানে বক্তব্য রাখেন পশ্চিমের ডিসি হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়্যা।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি পরিচয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে দুজনকে অপহরণ করা হয়েছে। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবেদীন আল মামুন ও তার গাড়ি চালক জুয়েল। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একইসাথে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা ৫ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবেদীন আল মামুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ট ও সীতাকুণ্ডের সাবেক এমপি, প্যাসিফিক জিন্সের মালিকের চাচাতো ভাই এস এম আল মামুনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বিপ্লব বড়ুয়াকে কাজে লাগিয়ে তিনি একবার সীতাকুণ্ড উপজেলার চেয়ারম্যানও হতে চেয়েছিলেন। সেই সময় উপজেলাজুড়ে তিনি ব্যাপক পোস্টারিংও করেন।
পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়্যা বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে নগরের আকবর শাহ এলাকার বাসা থেকে আবেদীন আল মামুন ও তার গাড়িচালক মো. জুয়েলকে অপহরণ করে কয়েকজন যুবক। তারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়েছিল। ওই রাতে আবেদীন আল মামুন ও তার চালককে তারা নগরের আকবর শাহ, পাহাড়তলী, কর্নেল হাট ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় গাড়িতে করে ঘোরায়। পতেঙ্গায় পুলিশের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা কর্ণেল জোন্স সড়কে এসে চলে আসে। এর মধ্যে আবেদীন আল মামুনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ৫ লাখ টাকা আদায়ও করে ফেলে। বাকি ১৫ লাখ টাকার জন্য ৯ মার্চের তারিখ দিয়ে ব্যাংকের একটি চেক লিখে নেয়।
অপহরণের খবর পেয়ে নগর পুলিশ গোটা শহরে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে অপহৃত ২ জনকে এ্যাপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের রাস্তায় থেকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সারারাত অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া ৫ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চসিকের ১০ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কাট্টলীর জয়নাল আবেদীনের ছেলে নাজমুল আবেদীন, সিটি গেইট এলাকার মাঈনুল আমিন পারভেজের ছেলে নাঈমুল আমিন ইমন ও আরাফাত হোসেন এবং রিসতি বিন ইউসুফ।
নগর পুলিশের পশ্চিম বিভাগের ডিসি হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, গ্রেপ্তাররা নিজেদের সমন্বয়ক দাবি করলেও তা ভূয়া। এ ঘটনায় জড়িত অপি, আলাউদ্দিন, আরাফাত, আসিফসহ আরও কয়েকজনকে আটকে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি নামধারীরা টাকার জন্যই আবেদীন আল মামুনের বাসায় হানা দেয়। মামুন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল কিনা বা বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নেতা কিনা এমন কোনো তথ্য আমরা এখনও পাইনি।
জানা গেছে, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর চিন্ময়কৃষ্ণকে নিয়ে ঘটা ঘটনা নিয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন খুলশীর বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী। এই মামলায় আবেদীন আল মামুন ২২ নম্বর আসামি। এছাড়াও গত বছরের ৫ অক্টোবর সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের হওয়া মামলায় মামলায়ও আবেদীন আল মামুন আসামি। ওই মামলায় সাবেক সেখানকার সাবেক এমপি দিদারুল আলম, এস এম আল মামুনসহ ১৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এক বিএনপি নেতা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১৩, ১৬, ১৮ ও ২২ সালে তার নিজ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেন ওই বিএনপি নেতা। এছাড়াও সীতাকুণ্ড ও নগর কেন্দ্রীক কয়েকটি মামলায় তিনি আসামি বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, যখন কেউ ভিকটিম হিসেবে আসেন তখন তাকে আর আসামি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তিনি যে মামলার আসামি সেটা আমরা জানতাম না। তিনি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা সেটাও আমার জানা নেই। তাছাড়া আমার থানায়তো মামলা নেই ওনার বিরুদ্ধে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।