আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মীনা দিবস। শিশুদের শিক্ষা, অধিকার, সাহস ও স্বপ্নের প্রতীক হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় মীনা চরিত্রটি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। প্রতিকূলতা ও বাধা পেরিয়ে শিক্ষার আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় মীনা।
মীনা উজ্জ্বলতা, উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও উৎসাহের প্রতীক। প্রতিটি শিশুর কাছে মীনা শক্তি, সাহস ও প্রেরণার নাম। তার মূল বার্তা—শিক্ষাই পারে শিশুর কাঙ্ক্ষিত মুক্তির পথ তৈরি করতে এবং স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিতে। মীনার বহুল পরিচিত বক্তব্য, ‘দিন বদলের বইছে হাওয়া, শিক্ষা আমার প্রথম চাওয়া।’
১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মীনা দিবস পালিত হয়ে আসছে। এর পেছনে রয়েছে মেয়েশিশুর শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ।
সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালকে মেয়েশিশুর দশক হিসেবে ঘোষণা করে। এ সময় মেয়েশিশুদের আনন্দ, উৎসাহ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অ্যানিমেটেড সিরিজ তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেই ভাবনা থেকেই মীনা চরিত্রের সৃষ্টি।
মীনা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন কার্টুন ধারাবাহিক। ১৯৯৩ সালে প্রথম এটি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। বাংলা ভাষায় নির্মিত কার্টুন চরিত্রগুলোর মধ্যে মীনা অন্যতম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাসহ ২৯টি ভাষায় মীনা তৈরি হয়েছে। সার্কভুক্ত সাতটি দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও ধারাবাহিকটি প্রচারিত হয়।
কার্টুন সিরিজের পাশাপাশি মীনাকে নিয়ে কমিক বই ও রেডিও অনুষ্ঠানও প্রচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার মীনা কার্টুনের স্রষ্টা। এর সূচনা সংগীতও শিশুদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।
মীনা দিবসের মূল লক্ষ্য শিশুদের বিশেষ করে মেয়েশিশুদের শিক্ষা, অধিকার, সমতা ও আত্মবিশ্বাসের বিষয়ে সচেতন করা। তাই দিনটি শুধু একটি কার্টুন চরিত্রকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং শিশুদের শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারেরও দিন।
আর / দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।