দক্ষিণ পূর্ব

আ.লীগের বিরুদ্ধে মাজারের ৬৮ ডেকচি লুটপাটের অভিযোগ তুলেন চসিক প্রশাসক

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ ০৬:৫৩ বিকাল
পঠিত : ৩২
আ.লীগের বিরুদ্ধে মাজারের ৬৮ ডেকচি লুটপাটের অভিযোগ তুলেন চসিক প্রশাসক

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে সারা দেশে লুটপাট হয়েছে। সেই লুটপাট থেকে খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারও রেহাই পায়নি। মাজারের আগের কমিটির বিরুদ্ধে অর্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগের মাজার কমিটির কর্মকর্তারা ব্যাংক হিসাব থেকে দুই দফায় সাড়ে সাত লাখ টাকা, দোকানের অগ্রিম বাবদ এক কোটি ২০ লাখ টাকা, ৬৮টি ডেকচি, কয়েকটি এসি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মাজারের আঙিনার বেশ কয়েকটি বড় গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। এসব অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য আড়াল করতে আগের কমিটি হিসাব-নিকাশের কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেছে।

সম্প্রতি মাজারের ডেকচি গায়েব হওয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাজার পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ২৫ জুন ওয়াক্‌ফ এস্টেটের পরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষর করা তালিকা অনুযায়ী, বর্তমান কমিটির কাছে ২০টি বড় ও ১২টি ছোটসহ মোট ৩২টি ডেকচি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রোববার মাজারে গিয়ে নিজে গুনে দেখেছেন, তালিকাভুক্ত ৩২টি ডেকচিই অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।

চসিক প্রশাসক আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে মাজারের সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবু তাহের নামের যে মোতোয়াল্লি মাজারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তিনিও আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

মাজার পরিচালনা কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের কমিটির নিয়োগ দেওয়া মোতোয়াল্লি আবু তাহেরের কার্যক্রম স্থগিত করে চলতি বছরের ১৩ জুন তিন বছরের জন্য পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ও ১৩ সদস্যের পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়। পদাধিকারবলে চসিক প্রশাসক হিসেবে তিনি ওই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান।

তবে আগের কমিটির নিয়োগ দেওয়া মোতোয়াল্লি নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এ কারণে চট্টগ্রাম ওয়াক্‌ফ এস্টেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব বুঝে নেয় বর্তমান কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের দিন ২৫ জুন মাজারে থাকা ডেকচিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করা হয়। ওই তালিকায় ওয়াক্‌ফ এস্টেটের পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।

মাজার পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের ওয়াক্‌ফ পরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেন, মাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি গোলাম সরওয়ার, সদস্য আবদুল হালিম স্বপন, ফারুক শিকদার, মো. রুবেল, আবদুল মান্নান, ইদ্রিস আলী, হিসাবরক্ষক আনিসুর রহমান, নবী হোসেন, রায়হান আলম ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আর এইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।