দক্ষিণ পূর্ব

মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান: ডা. শাহাদাত

RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
পঠিত :
মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান: ডা. শাহাদাত
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।তাদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বধ্যভূমি সংরক্ষণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। শহিদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হান, চিকিৎসক আব্দুল আলিম, গোবিন্দচন্দ্রসহ অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতিকে মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে। তাঁরা ছিলেন দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক মেরুদণ্ড। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা ন্যায্যতা, সাম্য, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় তখনই পরিপূর্ণ হবে, যখন মানুষ তাদের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০১ সালের পর থেকে দেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানুষ দেখেনি। ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনগণ নির্বাচনের নামে তামাশা দেখেছে। এখন মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা লাল-সবুজের পতাকা ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ফিরে পেতে হলে হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার করতে হবে। আগামী নির্বাচনে ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ এই গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র বলেন, দেশে এখনো কার্যকর নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি সিটি মেয়রের অধীনে নেই। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। নগর সরকার প্রতিষ্ঠা হলে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত শহর গড়া সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অরক্ষিত বধ্যভূমি প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের যেসব বধ্যভূমি এখনো সুরক্ষিত নয়, সেগুলো সংরক্ষণে সিটি কর্পোরেশন কাজ করবে। বাজেট সংকটের কারণে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে নগরের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এ সময় মেয়রের সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার কর্মকর্তারা এবং সর্বস্তরের মানুষ।

রহা

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।