দক্ষিণ পূর্ব

মুনিরিয়া যুব তবলীগের বিরুদ্ধে ভূমিদখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগ

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৪ মে ২০২৬
পঠিত :
মুনিরিয়া যুব তবলীগের বিরুদ্ধে ভূমিদখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগ

ছবি: ভুক্তভোগী পরিবার

মুনিরিয়া যুব তবলীগ কমিটির প্রধান মুনিরুল্লাহ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, জবরদখল, মাদ্রাসা ও পুকুর দখল এবং হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।

 

সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদেক। তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের অরাজনৈতিক ও তরিকত ভিত্তিক সংগঠন দাবি করলেও মুনিরিয়া যুব তবলীগ বাস্তবে ভূমি দখল, মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাউজানের কাগতিয়া গ্রামে সংগঠনটির কার্যক্রমে স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছে। প্রাণনাশের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর মুনিরুল্লাহর নির্দেশে তার অনুসারীরা কাগতিয়া মাইজপাড়া তালীমুল কুরআন মাদ্রাসা দারুল ইয়াতামা দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে থানা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও ডিবি কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে সংগঠনটি কাগতিয়া এলাকায় প্রায় ৩৪৯ শতক নাল ফসলি জমি এবং অন্তত পাঁচটি পুকুর ভরাট করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাইজপাড়া মসজিদ পুকুর, মজিদা পুকুর, আলী মিয়া ডাক্তার বাড়ির পেছনের পুকুরসহ একটি এজমালী পুকুর। প্রাচীন মজিদা পুকুর রাতারাতি ভরাট করে মাঠে রূপান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুছার স্মৃতিস্তম্ভ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শহীদ কবি শওকত হাফেজ খান রুমির স্মৃতিবিজড়িত তোরণ ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

 

আবদুল্লাহ আল সাদেক অভিযোগ করেন, গত ৯ এপ্রিল রাতে নগরের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকায় তার বাসায় হামলা চালায় মুনিরুল্লাহর লোকজন। এ সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর মুখোশধারীরা বাসায় ঢুকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে এবং নারীদের হেনস্তা করে। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, বসতভিটা বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং দখলের প্রতিবাদ করায় তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। প্রবাসে থাকা বড় ভাই আল-আমিন সাব্বিরকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সংগঠনটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা রাউজান এলাকা থেকে পাহাড়ি মাটি এনে পুকুর, খাল ও নাল জমি ভরাট করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগের পর এক দফায় ৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৪০ টাকা জরিমানা করা হলেও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

 

ভুক্তভোগী পরিবার দখলকৃত মাদ্রাসা, জমি ও সম্পত্তি ফেরত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকটি পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন।

 

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।