দক্ষিণ পূর্ব

মোবাইল গেমের টাকার জন্য মাকে মারধর, পুলিশ হেফাজতে ছেলে

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল ২০২৬
পঠিত :
মোবাইল গেমের টাকার জন্য মাকে মারধর,  পুলিশ হেফাজতে ছেলে

ছবি : সংগৃহীত

আনোয়ারা উপজেলায় অনলাইন গেম খেলতে টাকার জন্য বটিঁ মাকে দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মো. জাবেদুল ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকা থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

 

এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জাবেদ ওই এলাকার কালা গাজীর বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত মো. ইয়াকুবের ছেলে। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে তার নিরাপত্তাপ্রহরী বাবা মারা যান। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পরিবারের একমাত্র ছেলে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে হাতে বটকি নিয়ে জাবেদ তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করছে। একপর্যায়ে বটকি দিয়ে ভয় দেখাতে দেখাতে মাকে মারধর শুরু করে। ভিডিওতে মাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘তোরে আমি টাকা দিব, তোর মাথা ছুঁয়ে বলছি, বটিটা আমাকে দিয়ে দে।’ কিন্তু এরপরও সে মায়ের ওপর হামলা চালায়।

 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি অনেকেই মাদক ও গেম আসক্তিকে যুব সমাজের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এ ধরনের আসক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

 

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. এনাম জানান, জাবেদ দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল গেমে আসক্ত। প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা চাইতেন এবং টাকা না পেলে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও প্রথমে তাকে পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে গেম আসক্তির কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তবে তখন তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।