নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার একটি শপিংমল থেকে চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।তার গ্রেফতার নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে গ্রেফতারের কৌশলসহ তার অপরাধনামা তুলে ধরেন।
রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন,আমাদের সিএমপির উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম একটি ট্রেনিং কোর্সে সাতদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশ হেডকোয়াটার্সের দেওয়া তথ্যে তিনি জানতে পারেন, সাজ্জাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে শনিবার রাত আটটায় বসুন্ধরা সিটিতে বাজার করতে গেছে। সিএমপির একটি টিম আগে থেকেই ঢাকায় ছিল। তথ্য পেয়ে তারা সেখানে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। উপস্থিত লোকজনও সাহায্য করেছেন তাকে ধরতে। এরপর তাকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।'
গ্রেপ্তারকালে ছোট সাজ্জাদ কোনো অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সে (ছোট সাজ্জাদ) যেহেতু ঢাকায় ছিল; তার আত্মবিশ্বাস ছিল তাকে ওখান থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে না। তাই সে অস্ত্র নিয়ে যায়নি। নিরস্ত্র ছিল। তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব। তার সহযোগীদের ধরব। কোথায় কোথায় অস্ত্র আছে সেটা তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে উদ্ধার করব।'
সাজ্জাদের গ্রেপ্তারের পর তার প্রতিপক্ষ গ্রুপ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে কি না এমন প্রশ্নে হাসিব আজিজ বলেন, ‘কোনোভাবেই না। আমাদের শহর এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাসীকে ছাড় দেব না।'
সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করতে এত সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘সাজ্জাদ তো আর সবার মতো না। সে একজন অপরাধী। সে সবসময় পালিয়ে বেড়ায়। তাকে ধরা কঠিন ছিল।'
সিএমপি কমিশনার বলেন,‘সাজ্জাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ মোট ১৫টি মামলা আছে। সে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করত।
তিনি বলেন, দুবাইয়ে থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ তাকে সবকিছু নির্দেশনা দেয়। ছোট সাজ্জাদ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণ ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অংকের চাঁদা দাবি করত। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তাদের বাড়িতে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভাঙচুর ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করত। তাকে আদালতে হাজির করে ১৪ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।’
ছোট সাজ্জাদকে ত্রাস সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ছোট সাজ্জাদ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বায়েজিদ, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকার ত্রাস সৃষ্টিকারী। সাজ্জাদ বায়েজিদ থানার আলোচিত ডাবল মার্ডার মামলার আসামি। চান্দগাঁও থানারও একটি খুনের মামলার আসামি সে। বায়েজিদ, চান্দগাঁও ও মোহরাকেন্দ্রিক সব ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো সে।'
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমি সিএমপিতে যোগ দেয়ার পর থেকেই তাকে ধরার চেষ্টা করছি। একবার তাকে ধরতে তার বাসায় অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। সে কতবড় দুর্ধর্ষ, পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে আরেকটি ভবনে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। তার ছোড়া গুলিতে ওই ভবনের দারোয়ান ও পুলিশের সোর্স আহত হন।’
তিনি বলেন, ‘এরপর সে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসে আমাদের বায়েজিদ থানার ওসিকে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেয়। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেই, যথেষ্ট হয়েছে। তাকে ধরিতে দিতে পারলে অর্থ পুরষ্কার ঘোষণা করি। তাকে ধরতে পুলিশ হেডকোয়াটার্সের গোয়েন্দা দল আমাদের অভূতপূর্ব সহযোগিতা করেছে।’
এদিকে ১৭ মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তার স্ত্রী টিকটকার তামান্না শারমিন ফেসবুকে একটি ভিডিও বক্তব্য দেন।ভিডিওটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে তামান্না শারমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কাঁড়ি কাঁড়ি, বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে আমার জামাইকে নিয়ে আসব। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
তামান্না শারমিন বলেন, ‘আমার জামাই গ্রেপ্তার হয়েছে, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মামলা যখন আছে, গ্রেপ্তার হবেই। আপনারা যারা ভাবতেছেন, আর কোনোদিন বের হবে না, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা।’ প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এত দিন আমরা পলাতক ছিলাম, এখন তোমাদের পলাতক থাকার পালা শুরু। খেলা শুরু হবে এখন।’
এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মফিজ উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, তাহসিন হত্যা মামলায় সাজ্জাদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।