দক্ষিণ পূর্ব

রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানকে যাচ্ছেনা থামানো

sathi
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫
পঠিত :
রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানকে যাচ্ছেনা থামানো
নিজস্ব প্রতিবেদক 
একেরপর এক অপরাধ করেও অধরা রয়ে গেছেন ৮ টি হত্যাসহ ১৫ মামলার আসামী মোহাম্মদ রায়হান।চট্টগ্রামের এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবার রাউজান থানার ওসিসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি 'রায়হান আলম' থেকে পোস্ট করে সন্ত্রাসী রায়হান গত ৫ থেকে ১৩ নভেম্বর বিভিন্ন জনকে  হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পোস্টে রায়হান  ‘ভয়ংকর মৃত্যু’, ‘খেলা শুরু’ বলে হুমকি দেন।

জানা যায়, গত ১৩ নভেম্বর রায়হান আজিজ নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়ে  লেখেন, ‘তোর মৃত্যু হবে সব চাইতে ভয়ংকর। কুকুরে তোর নাড়িভুড়ি টেনে টেনে খাবে।’ আরেকটি পোস্টে রায়হান অভিযোগ করেন, তাকে হত্যা করতে ২০ লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছে। পাল্টা তিনি লেখেন, আমি ৩০ লাখ দেব আজিজকে জীবিত দিতে হবে।’

আরেকটি পোস্টে রায়হান রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, ‘মামলা বাণিজ্য বন্ধ করুন। সঠিক তদন্ত না করে টাকার বিনিময়ে মামলা দিলে রাউজানের পরিস্থিতি আপনার কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে।’

এই বিষয়ে ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকেও সরাসরি হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসী রায়হান। এছাড়া আরও অনেক লোককেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমরা তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

এদিকে সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাতে মোহাম্মদ একরাম নামের চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হানে। ওই ব্যবসায়ীকে রায়হান বলেন, ‘তোকে গুলি করে মারব না, ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারব।’

হুমকি পাওয়া ব্যবসায়ী মো. একরাম বলেন, শুক্রবার  রাত আটটার দিকে তাঁকে ফোন করেন সন্ত্রাসী রায়হান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো খুদে বার্তায় তাঁকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারার হুমকি দেন।

 ব্যবসায়ী একরাম বলেন, গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মলে ঘুরতে দেখে  শীর্ষ সন্ত্রাসী  ছোট সাজ্জাদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন তিনি। এরপর সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তাঁকে হুমকি দেন। ওই হুমকির ঘটনায় তিনি পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছিলেন। এরপর থেকে সাজ্জাদের হয়ে রায়হান হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

কে এই সন্ত্রাসী রায়হান? 

সন্ত্রাসী রায়হান রাউজান উপজেলার ৭ নম্বর ইউনিয়নের জুরুরকুল খলিফা বাড়ির মৃত বদিউল আলমের পুত্র। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের (বর্তমানে কারাবন্দী) অন্যতম সহযোগী সে। সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের চালিতাতলী এলাকায়  বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে ঢুকে সরওয়ার হোসেন বাবলা নামে আরেক সন্ত্রাসীকে গুলি করে খুন করে রায়হান। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

জানা  যায়, সন্ত্রাসী রায়হান রাউজান উপজেলায় যুবদল কর্মী মো. আলমগীর ওরফে আলম, রাউজানের কদলপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. সেলিম, রাউজান ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে প্রাইভেটকারে থাকা মো. বখতিয়ার হোসেন ওরফে মানিক (২৮) ও আব্দুল্লাহ আল রিফাত (২২) নামে দুজনকে গুলি করে হত্যায় সরাসরি জড়িত।এছাড়া আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে হত্যায়ও জড়িত ছিলো সন্ত্রাসী রায়হান।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।