দক্ষিণ পূর্ব

রাউজানে কাফনে রক্তের দাগ দেখে দাফনে বাধা

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৮ জুন ২০২৬
পঠিত :
রাউজানে কাফনে রক্তের দাগ দেখে দাফনে বাধা

ছবি: সংগৃহীত

রাউজানে দাফনের প্রস্তুতির সময় কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে এক বৃদ্ধের জানাজা স্থগিত করেছে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

 

রোববার উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ননা হাজী তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম সিরাজ উদ্দৌলা দুলাল। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর একটি বাসায় সিরাজ উদ্দৌলার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে দাফনের জন্য তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি রাউজানে নেওয়া হয়। আসরের নামাজের পর জানাজার প্রস্তুতির সময় কাফনের কাপড়ে অতিরিক্ত রক্তের দাগ দেখতে পান উপস্থিত লোকজন। এতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দাফন কার্যক্রম স্থগিত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

 

জানা যায়, লাশ শহর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাউজানে আনা হয়। তবে লাশ গাড়ি থেকে নামাতে আপত্তি জানান সঙ্গে আসা স্বজনেরা। পরে ঘরে নিয়ে গেলে মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত দেখা যায়। তখনই সন্দেহ করে স্থানীয়রা। আসরের নামাজের পর জানাজার প্রস্তুতি নিলেও স্থানীয়রা জানাজা করতে দেয়নি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন বলেন, কবর প্রস্তুত ছিল এবং জানাজার সব আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু মরদেহ খাটিয়ায় তোলার সময় কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশকে অবহিত করা হয়।

 

জানা যায়, নিহত বৃদ্ধ সিরাজউদ্দৌলা দুটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম ঘরে দুটি মেয়ে আছে। তবে তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয় ঘরে স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে আছে।

 

নিহতের ভগ্নিপতি মো. ইউসূফ বাবুল অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পারিবারিক কলহের কারণে সিরাজ উদ্দৌলা কিছুদিন আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। পরে তিনি আবার নিজ বাসায় ফিরে যান। তার মাথায় তিনটি কোপের মতো চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করে তিনি মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

 

তবে নিহতের স্ত্রী জাহেদা বেগম দাবি করেছেন, তার স্বামীর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

 

তার মেয়ে জেনি আকতার বলেন, ‘আমি কিচ্ছু জানি না বাবা কীভাবে মারা গেছেন। আমি মারা যাওয়ার পরে এসেছি।’

 

রাউজান থানার উপপরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করছি মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

 

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।