দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামের রাউজানে কি হচ্ছে এসব?

sathi
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৫
পঠিত :
চট্টগ্রামের রাউজানে কি হচ্ছে এসব?

বিশেষ প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলা হয়ে উঠেছে ভয়ংকর এক জনপদ। গত ৫ আগস্টের  পর  সেখানে ঘটেছে একের পর এক গা শিউরে ওঠার মতো ভয়ংকর অপরাধ। রাত নামলেই ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দিনে দুপুরে গুলি করে মারা হচ্ছে মানুষ। চলছে জমি দখল। নদী থেকে তোলা হচ্ছে বালু। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। চুন থেকে পান খসলেই হামলা হচ্ছে ঘরবাড়িতে। হামলা থেকে বাদ যাচ্ছেনা মসজিদ মাদ্রাসাও৷ বিএনপির দুই নেতার অনুসারীরা কখনো নিজেরা লিপ্ত খুনোখুনিতে। আবার দুর্বল মানুষের উপরও তারা চালাচ্ছে অত্যাচার। গত ছয় মাসে ৫ খুন আর অর্ধশত গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ কোনো অভিযান নেই এই জনপদের অপরাধ দমনে।

সর্বশেষ উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের নোয়াজিশপুর গ্রামের ঈদগাঁ মাঠে ১৯ মার্চ ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। আর এতে গোলাগুলির ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন আরও অন্তত ১৫ জন। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপির  ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও  উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার ও দলটির ভাইস অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫টি মোটরসাইকেল ও ১টি অটোরিকশায় আগুন দেওয়া হয়েছে। গোলাম আকবর বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। 

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত জাহাঙ্গীরের বাড়ি নোয়াপাড়ার নিরামিষ পাড়ায়। এ ঘটনায় তার আরো দুই সহযাত্রী আহত হয়েছেন। নিহত জাহাঙ্গীর নোয়াপাড়া এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারের মালিক এবং চট্টগ্রাম শহরের শুটকি ব্যবসায়ী।

এরপর গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি ধরের টেক এলাকায় দুটি প্রাইভেট কারে ৭ থেকে ৮ জনের একটি অস্ত্রধারী দল এসে এক দোকানিকে গুলি করে এবং আরেকজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি একই ইউনিয়নের গরিব উল্লাহ পাড়ার মোহরম আলীর ছেলে সালেহ আহমদ (৪২)। তিনি একজন ডেকোরেশন ব্যবসায়ী। ওই ঘটনায় তার ভাগনে মুহাম্মদ জামশেদ (২৫) তুলে পেটানো হয়। তাদের মধ্যে সালেহ আহমদ কপালে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।

হামলার শিকার সালেহ আহমদ গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তিনি বিএনপি'র কেন্দ্রীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। গোলাম আকবর খোন্দকারের লোকজন  তাদের উপর হামলা করেছে। দুটি প্রাইভেটকার নিয়ে এসে গুলি চালানো দলের প্রধান কথিত যুবদল নেতা আরাফাত মামুন  খোন্দকারের অনুসারী। পরে তাকে ও তার এক সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে গত বছরের ১৪ নভেম্বর রাতে নোয়াপাড়ার নিরামিষ পাড়ায় দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুখোশ পরা অস্ত্রধারীদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে ১৫ জন গ্রামাবাসী গুলিবিদ্ধ হন। এই অস্ত্রধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ সাগর ও ওই ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ পারভেজও গুলিবিদ্ধ হন। 


ঘটনার শুরু ১৮ আগস্ট থেকে: 

রাউজান উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপে প্রথম হানাহানি শুরু হয় গত ১৮ আগস্ট। ওই দিন উপজেলার চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের জিয়া বাজারে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা মিছিল বের করে। এ সময় তারা  হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছোটন আজম বলেন, গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেছে। এর দুদিন পর নোয়াপাড়ার পথেরহাট বাজারে গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীরা পথসভা করেন। সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাদের ওপর হামলা হয়।

এরপর গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় থেকে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী উপজেলার দুই ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীন ও মুহাম্মদ সাজ্জাদকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মারধর করে হাত-পা বেঁধে নদীর চরে মৃত ভেবে তাদের ফেলে রেখে যান হামলাকারীরা। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েকদিন ভর্তি ছিল। 

এ ঘটনার পর এলাকাছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা, মামলার শিকার হয়ে এলাকায় যেতে পারেননি তিনি। আর এখন যেতে পারছেন না গিয়াস কাদেরের অনুসারীদের কারণে। এ ঘটনায় জয়নালের বাবা শওকত আলী বাদি হয়ে রাউজান থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। 

এছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমকে গ্রেপ্তার করা হলে রাউজানের পথেরহাট বাজারে আনন্দমিছিল বের করেন গিয়াস উদ্দিন কাদেরের অনুসারীরা। ওই মিছিলে হামলায় উপজেলা যুবদলের নেতা সুজন আচার্যসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। এই ঘটনার জন্য আকবরের অনুসারীদের দায়ী করে মামলা হয়েছে।

প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি:

রাউজানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। তারা আগের তুলনায় এখন কয়েকগুণ বেপরোয়া। কথায় কথায় গুলি ছুড়েন প্রকাশ্যে। আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা দখল এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনা ঘটছে। প্রায় সব সন্ত্রাসীরাই একই কায়দায় অস্ত্র প্রদর্শন করছে। এর আগে রাউজানের নোয়াপাড়ায় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। দুটি ভিডিওতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক জানে আলম ও তার সহযোগীদের দেখা গেছে।

১০ অক্টোবর নোয়াপাড়ার খায়েছ আহমদ চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় এক ভিডিওতে দেখা যায়, কামাল উদ্দিনের ঘরের সামনে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে তাক করতে উদ্যত হন জানে আলম। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর কামালের বাড়ির গেটের সামনের রাস্তায় দোনালা বন্দুকসহ দেখা যায় জানে আলম ও তার কয়েকজন সহযোগীকে। পরে যৌথ বাহিনী ২ ডিসেম্বর নগরের চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে জানে আলমকে গ্রেপ্তার করে।

গত বছরের ২২ নভেম্বর বিকালে রাউজানে বিএনপির দুইপক্ষের হানাহানি, গোলাগুলি বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গ্রামের নারীরা। উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের গুহরক্ষিত পাড়া দয়াময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েকশ নারী ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা স্বাধীনতার পর থেকেই সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে এখানে এবিএম ফজলে করিমের কথাই ছিল 'আইন।' কেউ তার কথার বাইরে গেলে তাকে পিটিয়ে আহত করা হতো। মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হতো।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় গেল দেড় দশকের বেশি সময় ধরে এলাকা ছাড়া। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে তারা এলাকায় ফিরতে শুরু করেন। তবে এলাকায় ফিরেই আধিপত্য বিস্তার, হামলা, সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল,  গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছে বিএনপির দুটি পক্ষের (গিয়াস কাদের ও গোলাম আকবর অনুসারী ) নেতা-কর্মীরা।

জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া  বলেন, আমরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করছি। অস্ত্র উদ্ধারে সচেষ্ট আছি। যারাই আইন ভঙ্গ করবে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। আমাদের অভিযান চলমান আছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছি আমরা। আগের তুলনায় রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো। তবে কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচীতে যদি গন্ডগোল হয় সেখানে পুলিশের এখতিয়ার নেই। এটি নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমরা তাদের প্রেগ্রামগুলোকে কেন্দ্র করেও সতর্ক আছি।  

গত ৫ মার্চ উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে অভিযান পরিচালনা করে আরাফাত মামুন ও বিপ্লব বড়ুয়া নাজে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে বিদেশী পিস্তল, ২ রাউন্ড কার্তুজ, ৫ রাউন্ড গুলি, এলজিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তারা ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়ায় শুটকি ব্যবসায়ী হত্যা মামলার আসামি বলে জানা গেছে। আরাফাত মামুন যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও তার কোনো পদ-পদবী নেই। যদিও তিনি গোলাম আকবরের ছবি দিয়ে বিভিন্ন ব্যানার টাঙিয়েছেন। বিপ্লবও একই দলের রাজনীতিতে যুক্ত। 

 রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বুধবার (১৯ মার্চ) আমাদের নির্ধারিত ইফতার মাহফিল ছিল। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা ১০-১২টি মোটরসাইকেলে এসে ২০-২২টি অস্ত্র হাতে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তারা পূর্ব নির্ধারিত ইফতার মাহফিলটি পণ্ড করে দেয়। প্রায় ৪০০ মানুষ উপস্থিত ছিল ওই ইফতার মাহফিলে। আমাদের ৭-৮ জন আহত হয়েছেন। একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এখন কিছুটা উন্নতির দিকে। আমাদের কেউ কাউকে মারধর করেনি এবং কোন গাড়িতে আগুন দেয়নি। 

তিনি আরও বলেন, রাউজানে গোলাম আকবর খন্দকারের নেতৃত্বে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। এর আগে আহ্বায়ক কমিটি কাজ করেছে। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অংশ চাচ্ছে সবকিছু ভেঙে দিয়ে কিছু একটা করতে৷ এ জন্য তারা অস্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনীতি করছি। তারা বেআইনীভাবে অস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি করছে আমাদের প্রোগ্রামে। তাহলে বলুন, কে অস্ত্রের রাজনীতি করছে। কে রাউজানে অশান্ত করে তুলেছে। 

আর জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির সদস্য আবু জাফর চৌধুরী বলেন, ‘নোয়াজিশপুরের পাশের ইউনিয়নের চিকদাইরে আমাদের দলীয় ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে যাওয়ার পথে গোলাম আকবরের অনুসারীরা আমাদের কর্মীদের মারধর করেন। এ সময় আমাদের কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেলে আগুন দেন তারা। এ ছাড়া সন্ধ্যায় আমাদের কর্মীদের ওপর আবারও হামলা করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি আছেন। ইফতার মাহফিল নিয়ে এসব হানাহানি আমাদের কাম্য নয়।

এদিকে সামগ্রিক  বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারকে ফোন দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।পরে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ক্ষুদে বার্তা দিলেও তিনি উত্তর দেননি।আর গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফোন দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত প্রশাসনের।এরপরও
 আমরা  বিষয়টি নজর রেখেছি।দলীয়  শৃঙ্খলা নষ্ট করলে যে কারও বিরুদ্ধে দল অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিবে।

 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।