ফটিকছড়ি উপজেলায় এবারের ঈদুল আজহার চামড়ার বাজারে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ট্যানারি মালিক ও বড় পাইকারদের অনুপস্থিতিতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে শত শত চামড়া সড়ক ও বাজার এলাকায় ফেলে রেখে গেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সংগ্রাহকরা। রাতভর অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা না মেলায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলার বিবিরহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের প্রধান সড়ক, ফুটপাত ও দোকানের সামনের খোলা জায়গাজুড়ে সারি সারি গরুর চামড়া পড়ে রয়েছে। কোথাও স্তূপ করে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও তীব্র রোদ ও গরমে চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অপসারণ না করা হলে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন দুপুর থেকেই উপজেলার নানুপুর, হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং, দাঁতমারা ও সুন্দরপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে বিবিরহাট বাজারে আনেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তারা আশা করেছিলেন, রাতে ট্যানারি প্রতিনিধি কিংবা বড় পাইকাররা এসে চামড়া কিনবেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বড় কোনো ক্রেতার দেখা মেলেনি।
প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দাম থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। ফলে স্থানীয়ভাবে তুলনামূলক বেশি দামে চামড়া কিনে এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
একাধিক চামড়া ব্যবসায়ী জানান,
“প্রতিটি চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনেছি। এর সঙ্গে লবণ, শ্রমিক ও পরিবহন খরচও রয়েছে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বড় কোনো ব্যবসায়ী নেই। এখন কম দামে বিক্রি করলে পুরো পুঁজি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।”
এদিকে সড়কে দীর্ঘ সময় চামড়া পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্গন্ধ ও বর্জ্যের কারণে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম গণমাধ্যমকে বলেন,“সড়কে পড়ে থাকা অবিক্রীত চামড়াগুলো দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশসম্মতভাবে সংরক্ষণ কিংবা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আর এইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।