দক্ষিণ পূর্ব

রেকর্ড গড়ল চট্টগ্রাম বন্দর, বেড়েছে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
রেকর্ড গড়ল চট্টগ্রাম বন্দর, বেড়েছে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং

ছবি : চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ সময়ে বন্দরে ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউএস (TEUs) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯১ টন কার্গো এবং ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। তিনটি খাতেই আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউএস। সেই তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

 

একই সময়ে খোলা কার্গো (বাল্ক কার্গো) হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৯১ টন, যা আগের অর্থবছরের ১৩ কোটি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৩ টন থেকে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি।

 

জাহাজ হ্যান্ডলিংয়েও নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ বন্দরে হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৭টি। সে হিসাবে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ।

 

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু হ্যান্ডলিং সক্ষমতাই নয়, অপারেশনাল দক্ষতাও বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল (Turnaround Time) কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে, যা পণ্য খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করেছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয়। আর কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই প্রতিফলন।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও চিফ পার্সোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বন্দর কার্গো, কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিং—তিনটি খাতেই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও ক্রমবর্ধমান আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের চাহিদা পূরণে বন্দরকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।