দক্ষিণ পূর্ব

রেমিট্যান্স সমৃদ্ধ ফটিকছড়িতে নেই সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৭ জুন ২০২৬
পঠিত :
রেমিট্যান্স সমৃদ্ধ ফটিকছড়িতে নেই সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

ফাইল ছবি

মো:আজগর আলী(ফটিকছড়ি প্রতিনিধি)

প্রবাসী অধ্যুষিত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি আধুনিক সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার-টিটিসি) প্রতিষ্ঠার দাবি দিন দিন জোরালো হয়ে উঠছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী পরিবার, শিক্ষিত তরুণ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি সরকারি টিটিসি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
 

চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা ফটিকছড়ি। প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজারো তরুণ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখনো উপজেলায় কোনো সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 

বর্তমানে প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহীদের চট্টগ্রাম নগরী, ঢাকা, বরিশাল কিংবা পাশের রাউজান উপজেলায় যেতে হয়। দূরত্ব, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সময়ের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে বৈদেশিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।

 

সৌদি আরব প্রবাসী ইমরান হোসেন বলেন, রাউজান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিএমইটির অধীনে ভাষা প্রশিক্ষণ, দক্ষতা মূল্যায়ন, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা কর্মশালা এবং আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। অথচ একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে ফটিকছড়ির শিক্ষার্থী ও বিদেশগামীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, ফটিকছড়িতে দ্রুত একটি আধুনিক সরকারি টিটিসি স্থাপন করা হোক। পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং, কেয়ারগিভারসহ বিভিন্ন কারিগরি কোর্স চালু, নারীদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য একটি কাউন্সেলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

 

এ বিষয়ে ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, “প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের কল্যাণ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। প্রবাসী ভাইদের উন্নয়ন ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের জন্য যা করা প্রয়োজন, তা করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

 

বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (অব.) ও চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হোসেন বলেন, কারিগরি দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞানের অভাবে অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে কম মজুরির কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন। ফটিকছড়িতে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, আয় বাড়বে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমবে।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।