র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে গুম–খুনসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংস্থা দুটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি এ দাবি জানান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ডিজিএফআইয়ের হাতে গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় তিনি সাক্ষ্য দেন।
ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। তা সম্ভব না হলে র্যাবে কর্মরত সেনাসদস্যদের সামরিক বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত। একই সঙ্গে ডিজিএফআই বিলুপ্ত করারও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এই সংস্থাটি “অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ার” কারণে টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের সময় নিহতদের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্র থেকে গুরুতর অভিযোগ শুনেছেন। তবে এসব তথ্য তিনি শোনা সূত্রের ভিত্তিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানান।
সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, র্যাবের কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশন ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেন। একপর্যায়ে ডিজিএফআই, বিজিবি ও র্যাবে সেনা কর্মকর্তাদের নতুন পোস্টিং বন্ধ করে দেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্তের কারণে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও র্যাবে কর্মকর্তা দেওয়ার অনুরোধ এসেছিল বলে তিনি সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন। তবে জনবল সংকটের কথা জানিয়ে তিনি সে অনুরোধ রাখেননি বলে জানান।
ইকবাল করিম ভূঁইয়া ২০১২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
রোববার তাঁর সাক্ষ্যের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সোমবার আংশিক জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
রহা
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।