দক্ষিণ পূর্ব

লোহাগাড়া ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
লোহাগাড়া ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি

ছবি

লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন ছাড়াই গঠন করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও বিস্ফোরক আইনের মামলার এক এজাহারভুক্ত আসামিকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন ও সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে পদাধিকারবলে ইউএনওকে সভাপতি এবং এস এম চিশতীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কিন্তু প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ্যে আসে আজ। 

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এস এম চিশতী লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশহাট এলাকার বাসিন্দা। আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর লোহাগাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনের ধারায় দায়েরকৃত মামলার ৭৪ নং এজাহারভুক্ত আসামি চিশতী।একইসাথে তিনি সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এস এম মামুনের শ্যালক।

জানা যায়, এর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮–এর ধারা ২(৪) ও ৮ অনুযায়ী জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক টিটন খীসার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত ৩০ এপ্রিল লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং কুতুব উদ্দিনকে সদস্যসচিব করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অ্যাডহক কমিটিকে কোন তোয়াক্কা না করে কোনো নির্বাচন ছাড়াই গত ৭ জুলাই ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেন ইউএনও।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব কুতুব উদ্দিন বলেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন নিয়ে কোনো সভা হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

 

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একটি জুম মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। যেহেতু বিষয়টি জেনেছি, অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনা অনুসারে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা উচিত ছিল। পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার এজাহারভুক্ত একজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়নের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

 

আর এইচ/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।