দক্ষিণ পূর্ব

শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা কামারপাড়ায়

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৭ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা কামারপাড়ায়

ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। পছন্দের পশু কেনার পর কোরবানির প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতিসহ পশু জবাইয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম। আর ঈদ সামনে রেখে নগরের কামারপাড়াগুলোতে এখন চলছে দম ফেলার ফুরসত নেই। দিন-রাত কাজ করে এসব সরঞ্জাম তৈরি ও শান দিচ্ছেন কারিগররা। তবে লোহার দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারেও।

 

চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গিবাজার, জেল রোড, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার কামারদের দোকানে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দোকানের সামনে সারি সারি সাজানো নানা আকারের দা, চাপাতি, ছুরি ও বঁটি। ভেতরে জ্বলন্ত আগুনে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন সরঞ্জাম। চারপাশজুড়ে হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা।

 

কামাররা জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের আগের কয়েক সপ্তাহই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি-বঁটি ধার দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে।

 

কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার কারিগর রতন কর্মকার বলেন, “প্রায় ৩৬ বছর ধরে এই কাজ করছি। সারা বছরের মধ্যে ঈদের মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। ঈদের আগে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ে। এবার নতুন দা-ছুরি কেনার চেয়ে পুরোনো সরঞ্জাম ঝালাই ও ধার করানোর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।”

 

দোকানদাররা বলছেন, বড় স্প্রিং চাপাতির দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা, ছোট চাপাতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া ছুরি (ছোট) ২০০, মাঝারি ৩০০ এবং বড় জবাই করার ছুরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।দা ৮০০-৯০০ টাকা, বঁটি প্রতিপিস সাড়ে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা, ভোজালি ৫০০ থেকে ২ হাজার এবং হাড় কাটার জন্য ছোট আকারের কুড়াল ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া পশুর চামড়া কাটার জন্য ছোট ছোট চাকু বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। যন্ত্রপাতি ধার দিতে বঁটির জন্য ১২০ থেকে ২০০ এবং চাপাতিতে ১৫০-২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

 

কামারপাড়াগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই এখনো কোরবানির পশু কেনেননি। তবে ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগেভাগেই দা-ছুরি ধার করিয়ে নিচ্ছেন।

 

কোতোয়ালী এলাকার বাসিন্দা আবদুল মুহিত বলেন, “ঈদের দু’দিন আগে গরু কেনার পরিকল্পনা আছে। তাই আগে থেকেই দা-ছুরি ধার করিয়ে নিচ্ছি, যাতে পরে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।”

 

চকবাজার কামারপাড়ার কারিগর কিশোর কর্মকার বলেন, “ঈদের আগের রাত পর্যন্ত দোকানে কাজের চাপ থাকবে। নতুন সরঞ্জাম বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জাম ধার দেওয়া ও মেরামতের কাজও চলবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।”

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।