চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ ও নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ। সভায় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাছানসহ সমিতির সদস্যরা অংশ নেন।
সভা শেষে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করবে।
এর আগে একই দিন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা। বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনও করেন তারা। এতে শিক্ষক সমিতির নেতাদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
তারা বলেন, চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষকদের দাবি তুলে ধরতে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, চলমান পরিস্থিতি ও তাদের দাবিগুলো শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
এর আগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আগামী রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে রাতে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় শিক্ষক সমিতি ২৪ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই পূর্ণ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।’
জরুরি সভার বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চুয়েট শিক্ষক সমিতির সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর’ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষক সমিতি জানায়, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আর / দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।