জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কেন্দ্রস্থলে অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। এ ছাড়া কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর করেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে পুলিশের দিকে মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ জানায়, শহরের কেন্দ্রে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করেও মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
আয়োজকদের পূর্বাভাস ছিল, বিক্ষোভে প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষ অংশ নেবেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। অন্যদিকে আয়োজকদের ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৬ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হ্যালোইন উৎসবের দিন আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হামবুর্গের কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেডে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
বার্লিনের সমাবেশে জেন জি রেজেল্ট সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, তাঁরা যুদ্ধ ও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার পরিবর্তে শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন করছেন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থায় আরও বেশি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক বোঝার ন্যায্য বণ্টন তাঁদের অন্যতম দাবি।
জার্মানির হেসি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পসেক বিক্ষোভের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এমন ঘটনাকে কোনোভাবেই অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে দেখা যায় না।
এদিকে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় বার্লিনের অভিজাত কুর্ফুর্স্টেনডাম শপিং অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। অনেক দোকানের সামনের অংশ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
মিউনিখের সমাবেশে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী স্টিভ চ্যান্সেলর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তরুণদের উদ্বেগের জবাবে সরকার শুধু ব্যয় সংকোচন ও তাঁদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শন বেকারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষের অবস্থা জরাজীর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের সেখানে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
তবে জার্মানির জাতীয় শিক্ষার্থী সংগঠন বিএসকে এই আন্দোলন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে। সংগঠনটি আগামী ২০ নভেম্বর পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
সার্বিয়া ও ফ্রান্সে জেন জি তরুণদের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের পর এবার ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতেও তরুণদের এই আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এসআই/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।