মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে তাঁদের দেখতে হাসপাতালে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি আহত শ্রমিক ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসন, কারখানার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন।
তিনি বলেন, ‘যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’
সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, সীতাকুণ্ডে পুরোনো জাহাজ এনে শিপব্রেকিংয়ের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হয়। শুক্রবার সকালে ফেরদৌস শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ ভাঙার সময় গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, গ্যাসের কারণে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়ে যান। তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। মালিকপক্ষ জানিয়েছে, গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ডিসি বলেন, ঘটনার পরপরই নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালিকপক্ষ। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মেডিকেল প্রশাসন ও শিপব্রেকিং ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে মালিকপক্ষকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কারও গাফিলতি বা দায় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশসহ সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে আহত এক শ্রমিকের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা প্রশাসক। পরে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই শ্রমিক বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন। তবে তাঁর শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।