দক্ষিণ পূর্ব

‘স্লিপ অব টাং’ বিতর্কে জামায়াত

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬
পঠিত :
‘স্লিপ অব টাং’ বিতর্কে জামায়াত

প্রতীকী ছবি

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্য, তথ্যগত অসঙ্গতি ও বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর দলটির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সম্প্রতি নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, তাঁর বাবা ও দাদা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন এবং তাঁদের পরিবারে বহু মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তবে বক্তব্যটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ তাঁর বাবা বর্তমানে জীবিত রয়েছেন। পরে সংসদে তিনি বক্তব্যটি সংশোধন করে জানান, এটি ‘মুখ ফসকে’ বলা হয়েছিল এবং তিনি আসলে পরিবারের অন্য একজন সদস্যকে বোঝাতে চেয়েছিলেন।

 

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের মতে, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়া বক্তব্যে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। অন্যদিকে মুনতাকিম দাবি করেন, এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংশোধন করা হয়েছে।

 

একইভাবে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুস সাত্তারও সম্প্রতি সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ আপত্তিকর বিবেচনায় স্পিকার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সংসদ সদস্যদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

 

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের আবাসনে প্রয়োজনীয় কিছু গৃহস্থালি সরঞ্জাম না থাকার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি নতুন কোনো সুবিধা দাবি করেননি; বরং আগে থেকে প্রাপ্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

 

এদিকে বাজেট আলোচনা চলাকালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। বাজেটের আকার নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এমন একটি পরিমাণ উল্লেখ করেন, যা পরে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সমালোচিত হয়। পরবর্তীতে তিনি জানান, এটি ছিল ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখের ভুল এবং তিনি ভিন্ন পরিমাণ বোঝাতে চেয়েছিলেন।

 

শুধু সংসদেই নয়, দলের কয়েকজন আঞ্চলিক নেতার বক্তব্য নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে তাঁদের দেওয়া মন্তব্য পরে সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইতে হয়েছে।

 

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, মানুষের ভুল হতেই পারে। তবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে যেন এমন ভুল কম হয়, সে বিষয়ে দল গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

তিনি বলেন, “আমরা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছি। সংসদ সদস্য ও নেতাদের বিভিন্ন বিষয়ে আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করে তুলতে প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে তথ্যগত ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য না আসে, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে।”

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং তা রাজনৈতিক দল ও জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন। তাই সংসদে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা ও ভাষার শালীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দায়িত্বশীল বক্তব্য ও তথ্যনির্ভর উপস্থাপনাই এ ধরনের বিতর্ক এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।