চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ৮নং মেখল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে চ্যাংখালী খালের ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। শেখ আলাউদ্দিনের বাড়িসহ অন্তত ২০টি পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির বড় অংশ ইতোমধ্যে খালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হবে।
মেখল মৌজার চ্যাংখালী খালটি গিয়ে মিলেছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্রখ্যাত হালদা নদীর সঙ্গে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ২–৩ বছর আগে হালদার গড়দুয়ারা অংশের স্লুইস গেট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে জোয়ার-ভাটার পানির প্রবাহ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। তীব্র স্রোতের ধাক্কায় খালের তীর দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে, আর সেই ক্ষয়ের বলি হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি।
প্রবাসী বাসিন্দা ইসমাইল বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত জমির বড় অংশ এখন খালের মধ্যে। কৃষিকাজ তো দূরের কথা, বসতঘর টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে আমরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছি।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও টেকসই কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, রাতের অন্ধকারে মাটি ধসে পড়ার শব্দে আতঙ্কে কাটে সময়। অনেক পরিবার ঘর সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে, কেউবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে চ্যাংখালী খাল সংস্কার, ভাঙনরোধে শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হালদা তীরবর্তী এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জরিপ পরিচালনা করে স্থায়ী সমাধান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রতিবছর একটু একটু করে জমি হারিয়ে আমরা এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পুরো গ্রামই খালের গর্ভে চলে যেতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, যাতে বসতভিটা ও জীবিকার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা পায়।
মো. মহিউদ্দিন, হাটহাজারী প্রতিনিধি/ইই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।