চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাচারী রোডে জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন একটি বাণিজ্যিক মার্কেটে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে হাটহাজারী থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করে দ্রুতবিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে মার্কেটটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মামলার এজাহার ও জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনে হাটহাজারী উপজেলার কাচারী রোড এলাকায় সাত শতক জমির ওপর তিনতলা বিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করছে জেলা পরিষদ। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি হয়।
সূত্র জানায়, নির্মাণস্থলটি দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে ছিল। গত বছরের ২৩ নভেম্বর প্রশাসনের উদ্যোগে জমিটি উদ্ধার করা হলে নির্মাণকাজে গতি আসে। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে পূর্বের দখলদাররা পুনরায় প্রায় এক শতক জমির ওপর থাকা তিনটি দোকান দখলে নেয়। পরে গত ১৫ জুন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাইহান ফেরদৌসের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোকানগুলো পুনরুদ্ধার করা হলে আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়।
নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে মেসার্স মাইশা কনস্ট্রাকশন।গত ২২ জুন মার্কেটের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগের দিন, ২১ জুন দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে সংঘবদ্ধ একটি দল হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল কিরিচ, পিস্তল, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেটে প্রবেশ করে। তারা দায়িত্বরত দুই নিরাপত্তারক্ষী মো. শাহ আলম ও আব্দুল মান্নানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তিনটি ট্রাকে করে সেন্টারিং গ্রিল, বাঁশ, কাঠ, টিন, লোহার রড, বেষ্টনী ও শাটারিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায়। এ সময় নির্মাণসামগ্রীরও ভাঙচুর করা হয়।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী লুট করে এবং আরও প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করে।
ঘটনার পরদিন ঠিকাদার মো. আবুল মনছুর বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন। মামলায় নুরুল আবছার, সাদমান সাকিব, কানিজ ফাতেমা, সানজু আক্তার, মোমনি হোসেন, মো. সিরাজুদ্দৌলা রাফি, মো. শাহজাহান ও আ আ ম মুজাহিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত বলেন, জেলা পরিষদের নিজস্ব জমিতে সরকারি অনুমোদন নিয়ে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। নিয়ম মেনে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এ থেকে জেলা পরিষদের রাজস্বও আদায় হয়েছে। তবে ১৯৯৮ সালে ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন জায়গাটি দখলে রেখেছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে জমি উদ্ধার করা হলেও নির্বাচনের আগে আবারও দখল করা হয়। পরে গত ১৫ জুন প্রশাসনের অভিযানে জমি পুনরুদ্ধারের পর নির্মাণকাজ শুরু হলেও ছাদ ঢালাইয়ের আগের রাতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত কর্মীদের বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের ধারণা, পূর্বের দখলদাররাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মামলায় নাম থাকা আসামিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণপূর্ব/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।