দক্ষিণ পূর্ব

হাটহাজারীতে নিষিদ্ধ আ'লীগ চেয়ারম্যানদের খুঁটি ইউএনও!

sathi
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫
পঠিত :
হাটহাজারীতে নিষিদ্ধ আ'লীগ চেয়ারম্যানদের খুঁটি ইউএনও!

মো. আবু শাহেদ

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হলেও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চিত্র ভিন্ন। এখানে আ. লীগ চেয়ারম্যানদের খুঁটি হয়ে যেন দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এবিএম মশিউজ্জামান জনি।এরমধ্যে আওয়ামী লীগের  পদধারী নেতা ইউপি চেয়ারম্যানদের অপসারণের দাবিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

তবে এসব দাবিকে কোন পাত্তা দেননি ইউএনও। এতে স্থানীয়  বিএনপির  নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এদিকে চেয়ারম্যানরা বিভিন্ন মামলায় আসামী হওয়ায় নিয়মিত ইউপি কার্যালয়ে বসতে পারছেন না। সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার গুমানমর্দন ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান গুমানমর্দন ইউপি চেয়ারম্যান, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন আ. লীগের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ নাঙ্গলমোড়া ইউপি চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহেদুল আলম উত্তর মাদার্শা ইউপি চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আবছার সরকার চিকনদন্ডি ইউপি চেয়ারম্যান, শিকারপুর ইউনিয়ন আ. লীগের সেক্রেটারি আব্দুল খালেক শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান,বুড়িশ্চর ইউনিয়ন আ. লীগের সেক্রেটারি মোঃ জাহেদ হোসাইন বুড়িশ্চর ইউপি চেয়ারম্যান, হাটহাজারী উপজেলা কৃষকলীগের প্রচার সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ নুরুল আমিন ধলই ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন।

সূত্রে জানা যায়,গণঅভ্যুত্থানের পর হাটহাজারীতে এসিল্যান্ড, পৌরসভা প্রশাসক একাধিকজন রদবদল হলেও স্বপদে বহাল তবিয়ত রয়েছেন আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ ও ঢাকা ধামরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস প্রশাসনে সুপারিশ প্রাপ্ত ইউএনও। ২৪ এ হাসিনা সরকারের ডামি নির্বাচনে তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম -৫ (হাটহাজারী, বায়োজিদ আংশিক) সংসদীয় আসনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। ওই বছর ২১মে উপজেলা নির্বাচনেও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন। এনিয়েও রয়েছে স্থানীয়দের নানা প্রতিক্রিয়া।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বুড়িশ্চর, শিকারপুর ইউপির বাসিন্দা মোঃ আকবর আলী জানান, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানগুলো বিভিন্ন মামলার আসামি। যার কারণে তারা নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বসেন না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। চেয়ারম্যানগুলোকে অপসারণের জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। কিন্তু এতে কোন কাজ হয়নি। আমরা এ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করবো।

তবে অভিযোগের  বিষয়ে জানতে চাইলে  হাটহাজারী উপজেলা ইউএনও এবিএম মশিউজ্জামান জনি বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী কোথাও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান না থাকলে বা অনুপস্থিত থাকলে প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে। প্যানেল চেয়ারম্যান না পাওয়া গেলে প্রশাসক নিয়োগ করা যাবে। আমাদের ৭/৮টা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। আর কিছুদিন আগে একটা ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান না পাওয়া যাওয়ায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকলে প্যানেল দায়িত্ব পালন করবেন। তাও পাওয়া  না গেলে প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবে—এ নীতিমালা আমরা অনুসরণ করি। আর চেয়ারম্যান যদি উপস্থিত থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমি রিপোর্ট করতে পারি ক্ষেত্র বিশেষ।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমকে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ক্ষুদে বার্তা দেয়া হলে সেটার তিনি কোন উত্তর দেননি।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।