দক্ষিণ পূর্ব

সিইপিজেডে বেতনের দাবিতে বেপজা অফিস ঘেরাও, যানজটে দুর্ভোগ

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৭ জুলাই ২০২৫
পঠিত :
সিইপিজেডে বেতনের দাবিতে বেপজা অফিস ঘেরাও, যানজটে দুর্ভোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় চট্টগ্রাম ইপিজেডে থিয়ানিস অ্যাপারেলসনামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল। তাই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।

সোমবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে সিইপিজেডের দুই নম্বর সড়কের থিয়ানিস এ্যাপারেলস লিমিটেড নামে ওই পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

পুলিশ জানায়, প্রথমে কয়েক’শ শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। সকাল ১০টা থেকে তারা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর দেড়টার দিকে তারা সিইপিজেড থেকে বের হয়ে বিমানবন্দর অভিমুখী সড়কের উভয়পাশ অবরোধ করেন। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করে বিকেল ৪টার দিকে আবার সিইপিজেডের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর তারা বেপজা কার্যালয়ের মূল ফটক ও সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। একাধিকবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল থেকেই বেপজা অফিসের সামনে অবস্থান নেন এবং দফায় দফায় স্লোগান দিতে থাকেন। তারা রাস্তায় নামেনি। 

আন্দোলনরত এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘তিন মাস ধরে বেতন পাই না। বাসা ভাড়া, বাজার সব বাকি পড়ে গেছে। আমাদের ঘরে এখন খাবারও নেই। এখন না নামলে আর কবে নামবো?’

শিল্প পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, থিয়ানিস অ্যাপারেলসের কাছে বেপজা কর্তৃপক্ষের পাওনা আছে ২৮ কোটি টাকা। বেতন না দেয়ায় বারবার সেখানে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় বেপজা কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ করে দেন।

নগরীর ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ‘বন্ধ থাকা কারখানাটির শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে দেড় ঘণ্টার মতো মূল সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। আমরা গিয়ে বেপজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে আসার আশ্বাস দিয়েছি। এরপর তারা সড়ক ছেড়ে আবার সিইপিজেডের ভেতরে গেছেন।’

এর আগে, গত ৮ মে থিয়ানিস অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সিইপিজেডের মূল ফটক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন। এরপর বেপজা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তাদের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর আবার মে ও জুন মাসের বেতন বকেয়া রেখে দেয় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।