নিজস্ব প্রতিবেদক
সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হলো জুলাই আন্দোলনে শহীদ মো. ওমর বিন নুরুল আবছারের মরদেহ। জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ১০ মাস ২০ দিন পর আদালতের নির্দেশে তোলা হলো তার মরদেহ।
বুধবার (২৫ জুন) সকালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদণ্ডী এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। শহীদ ওমরের মা ও পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে গত বছরের আগস্টে রাজধানীর উত্তরায় ওমর বিন নুরুল আবছার (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টারের প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় ২১ আগস্ট ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা বলেন, আদালতের নির্দেশে শহীদ ওমরের মরদেহ উত্তোলনের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আবারও দাফন করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। আদেশের প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন চট্টগ্রাম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক স্বাক্ষরিত আরেক আদেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ প্রদান করা হয়।
এ আদেশে বলা হয়, ‘ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার মামলা নং-২১(৮)২৪, জি.আর মামলা নং-৩০৪/২৪ এর ভিকটিম ওমর বিন নুরুল আবছার (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দেশের পারিপার্শ্বিক কারণে ভিকটিমের অভিভাবকরা সুরতহাল, ময়নাতদন্ত এবং স্থানীয় পুলিশকে অবগত না করে ওমরের লাশ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উপজেলার আকুবদণ্ডী গ্রামের কবরস্থানে দাফন করেন। ফলে ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত করা হয়নি’।
মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ওমরের লাশ কবর হতে উত্তোলনের আদেশ প্রদান করা হয়।
এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।