হাটহাজারী সংবাদদাতা
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। সম্প্রতি হালদায় জোর সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা নয়াহাট, আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, কাটাখালী ও ফাঁড়ির মুখ এলাকায় ডিম সংগ্রহকারী আব্দুল কাদের, হোসেন, মুন্সির জালে অল্প সংখ্যক নমুনা ডিম ধরা পড়ে।
জোয়ারের পর পর ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে উঠে গেলেও সকাল সাড়ে ৮টা ও দুপুরে আবারো নদীতে জাল ফেলে অপেক্ষা করে ডিমের। এদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তপ্ত রোদ আর বজ্রসহ বৃষ্টি না হওয়ায় কোন ডিম ছাড়েনি মা মাছ। তবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সারাদিনের তপ্ত রোদকে বিদায় জানিয়ে শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। অপরদিকে ডিম সংগ্রহকারীরাও প্রতিবেদন করা অব্দি নদীতে অবস্থান করছে ডিম সংগ্রহের যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে। তাদের মতে রাতে পূর্ণ জোয়ারে হয়ত মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে।
গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর, মাছুয়াঘোনা এলাকার শফি, আবু তৈয়ব, রামদাশহাট এলাকার হোসেন, ফাঁড়ির মুখ এলাকার হারেস নমুনা ডিম ছাড়া ও রাতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানান।
হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে কয়েকটি স্থানে অল্প সংখ্যক ডিম পেয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। মঙ্গলবার রাতে জোয়ারের সময় পুরোদমে ছাড়ার সম্ভাবনা আছে যদি পরিবেশ অনূকুলে থাকে। হাটহাজারীর সরকারি তিনটি হ্যাচারি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।
জানা গেছে, এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়ে ইতোমধ্যে তিন তিনটি জো শেষ। বর্তমানে ডিম ছাড়ার চতুর্থ জো চলছে। এ জো'র আরও দুই থেকে তিনদিন চলবে। বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে পুরোদমে ডিম ছাড়ে মা মাছ। চলমান জো'তে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছেড়ে দিবে এ আশায় শত শত ডিম সংগ্রহকারী অপেক্ষামান নদীতে।
এমএম/এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।