কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে উপজেলা বিএনপির নেতা এম মঈন উদ্দীনের বিরুদ্ধে হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
রবিবার (৯ মার্চ) বিকাল তিনটায় উপজেলার মইজ্জারটেক মোড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ মানববন্ধন করে কর্ণফুলি উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। এতে প্রায় তিন শতাধিক নারী- পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার হারুনুর রশিদ। বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মির্জা বাহার উদ্দীন, মোঃ ইসমাইল, মোহাম্মদ সাদাত, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মোঃ সোলায়মান, জিএম জসীম উদ্দীন, এস এম পেয়ার আলী ও জাফর আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ বলেন, মঈন উদ্দীনের বিরুদ্ধে করা অপহরণের মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে তার বিরুদ্ধে ৮-১০ টি মামলা করা হয়। অনেক সংগ্রামের পর সেই কালোদিন কেটেছে। কিন্তু ফ্যাসিস্টদের দোসর ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগ অফিসারদের যোগসাজশে আজকে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশকে উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনারা রাজনীতি করবেন না। আপনারা কোন ষড়যন্ত্রে অংশ নেবেন না। আপনার এরমধ্যে ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়েছেন। আপনারা সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে আপনারা ঘি ঢালবেন না।
বিএনপির নেতা মো. মোহাব্বত পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম জুয়েল আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর। সে কি করে মামলা করে আর পুলিশ কি করে সেই মিথ্যা মামলা গ্রহন করে?
মানববন্ধনে বিএনপি নেতা মান্না বলেন, যারা ১৬ বছর নির্যাতন করেছে। তারা কিভাবে মিথ্যা মামলা করার সাহস পায় আমরা বুঝিনা। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই তদন্ত করে মূল আসামীদের চিহ্নিত করে নির্দোষ বিএনপি নেতাদের মামলা থেকে মুক্তি দিন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৭ মার্চ) উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহ আলমের ছেলে শহিদুল ইসলাম জুয়েল বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উপজেলা বিএনপি নেতা এম মঈন উদ্দীনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ তুলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত পাঁচ মার্চ রাতে তাকে ছাত্র পরিচয়ে একদল লোক কর্ণফুলী থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে থানায় না নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রাত তিনটার দিকে মুক্তিপণ ছাড়া অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়।
মামলায় জুয়েল উল্লেখ করেছেন বিএনপি নেতা মঈন উদ্দীনসহ আট আসামীর সাথে তার ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। যদিও জুয়েলের সাথে কোন ব্যবসায়িক সম্পর্কই নেই বলে জানিয়েছেন অভিযুক্তরা।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।