ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
ফটিকছড়িতে সরকারিভাবে আয়োজিত সমবায় আইন ও বিধিমালা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার উপস্থিতি ঘিরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক হলে সমবায় দপ্তরের ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ ইউনিটের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আবদুস শহীদ ভুঁইয়া। তার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সরকারি এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল হোসেন ওরফে হোসাইন বিন ওবাইয়েদও উপস্থিত ছিলেন। একই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনিক সূত্র জানায়, যে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা বা প্রতিনিধির সরকারি কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ফটিকছড়ির ইউএনও মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সরকারি ব্যানারে আয়োজিত প্রশিক্ষণে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক পরিচয়ের কাউকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই আমন্ত্রণ জানানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোসলেহ উদ্দিন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুস শহীদ ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকর্তা হিসেবে উপ-সহকারী নিবন্ধক গাজী ওমর ফারুক চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুস শহীদ ভুঁইয়া দাবি করেন, “আমরা কেবল ইউনিয়নভিত্তিক সমবায় সমিতিগুলোকে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, কে কোন দলের— তা আমাদের জানা ছিল না।”
ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর ফটিকছড়ি জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম নেয়। স্থানীয় রাজনীতি ও সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে— নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক নেতাকে কীভাবে সরকারি মঞ্চে জায়গা দেওয়া হলো?
চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সরকারি আইনের আলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যেন ভবিষ্যতেও সরকারি কর্মসূচির নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
গত ২০ অক্টোবর সোমবার জেলা সমবায় কার্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ ইউনিটের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মশালায় অংশ নেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল হোসেন ওরফে হোসাইন বিন ওবাইয়েদ। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, ‘উপজেলা সমবায় প্রশিক্ষণ সেমিনারে মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক চৌধুরী মহোদয়।’ পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চার হয়।
আজগর আলী/এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।