নিজস্ব প্রতিবেদক
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এখন টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হোসাইন জিয়াদ ও ক্যামেরাপারসন পারভেজ রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে)।
রোববার (৫ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তবর্তী কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, সদস্য মুস্তফা নঈম, গোলাম মওলা মুরাদ ও সিএমইউজের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জঙ্গল সলিমপুর দির্ঘদিন থেকে দাগি আসামি ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
সন্ত্রাসীদের এই দূর্গ ভেঙ্গে দিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের উপর এই ধরনের নগ্ন হামলা মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি হুমকি। গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজ এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম মেনে নিতে পারে না।
হামলাকারীরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয় যাতে না পায় সে ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন সাংবাদিক নেতারা। নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদেররা যে দলেরই হোক না কেন তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাকে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথ সহযোগিতা করবে। জঙ্গল সলিমপুরে কারা অবস্থান করে থাকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী না জানার কথা নয়।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, আমরা দেখতে চাই, পুলিশ প্রশাসন হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ২৪ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে, এইক্ষেত্রে কোন ধরনের গাফলতি সহ্য করা হবে না।
এর আগে শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সীতাকুণ্ডের ছিন্নমূল এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর এর নেতৃত্বাধীন দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ডাকাত সন্দেহে অন্তত ১৬ জনকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ ঘটনায় একজন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এখন টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হোসাইন জিয়াদ এবং ক্যামেরাপার্সন মো.পারভেজকে হামলা করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা দেশিয় অস্ত্র, গাছের টুকরো ও পাথর দিয়ে সাংবাদিকদের মাথায়, মুখে ও পিঠে আঘাত করে। রক্তাক্ত হয় দুই সাংবাদিক। তাদের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ক্যামেরা ভাংচুর করার পর তা আবার রেখে দেয় তারা। পরে সাংবাদিকদের জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত জিয়াদ এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে এবং পারভেজ রহমান ক্যাজুয়েলেটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।