দক্ষিণ পূর্ব

নিউজ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

Masud forhan
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
নিউজ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঁশখালীর কুতুবদিয়া চ্যানেলে অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সময়ের আলো ও একুশে পত্রিকার বাঁশখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানোর ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এজাহার দায়েরের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালী থানা পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় অন্যতম আসামি নিজাম উদ্দিনকে (৩০)। নিজাম কাথরিয়া ইউনিয়নের অলি আহমদের ছেলে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল করিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের এই ধরনের তড়িৎ ও পেশাদারী পদক্ষেপে নগরীর সাংবাদিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশের ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

কোতোয়ালী থানার ওসি আবদুল করিম বলেন, সাংবাদিক সমাজের দর্পণ। তাদের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা। আমরা ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। মামলা রেকর্ড হওয়ার সাথে সাথেই আমার নির্দেশে একাধিক টিম মাঠে নামে। প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মামলার আসামিরা হলেন— বাঁশখালী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ নুরুন্নবী ও নিজাম উদ্দিন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর বিএনপি নেতা রেজাউল হক চৌধুরীর অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে গত ৪ জুলাই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন। এর পর থেকেই তিনি নানাভাবে হুমকির শিকার হচ্ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন সাংবাদিক বেলালকে ফোন করে ‘জরুরি তথ্য দেওয়ার’ কথা বলে চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা মোড়ে আসতে বলে। বেলাল সেখানে পৌঁছানো মাত্রই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজাম, মোহাম্মদ নুরুন্নবী, রাসেল চৌধুরীসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। “রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিউজ করেছিস কেন? তোকে আজ মেরেই ফেলব,”—এই বলে তারা বেলালকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে।

তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালী থানায় মামলা (এজাহার) রেকর্ড হওয়ার পরপরই ওসি আবদুল করিমের নির্দেশে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল আন্দরকিল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২নং আসামি নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি আবদুল করিম।

ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।