দক্ষিণ পূর্ব

এবার মামুনুল হকের খেলাফতে যোগ দিলেন হেফাজত আমীরের সেই জামাতা

sathi
প্রকাশ : ৬ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
এবার মামুনুল হকের খেলাফতে যোগ দিলেন হেফাজত আমীরের সেই জামাতা
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর জামাতা মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী।

সোমবার (০৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাওলানা মামুনুল হকের নিজ কার্যালয়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। এ সময় দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবদুস সোবহানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়,মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার শাইখুল হাদীস আল্লামা আব্দুল আজিজ এর পুত্র। মাওলানা হাবীবুল্লাহ ছাত্র জীবনে শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর রুকন হন।তবে একপর্যায়ে তার রুকন পদ মুলতবি করে জামায়াত। 

মাওলানা হাবিবুল্লাহ ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আজাদী বাজার মাদ্রাসার মোহতামিম ( প্রধান পরিচালক) ছিলেন।সম্প্রতি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকাবাসীর তোপের মুখে মাওলানা হাবীবুল্লাহকে ফটিকছড়ির আজাদী বাজার মাদরাসার  নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয় মাদরাসার প্রবীণ আলেম মাওলানা জাফর উল্লাহকে। তবে ৫ আগস্ট সরকারের পটপরিবর্তন হলে আবারও পুনরায় মুহতামিম পদ ভাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন হাবিবুল্লাহ আজাদী। এর প্রতিবাদে বেশ কয়েকবার সংবাদ সম্মেলন করেন এলাকাবাসীসহ মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি শুরা কমিটির বৈঠক ডাকেন হেফজাতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এলাকাবাসীকে বাদ দিয়ে একপক্ষের হয়ে শূরা বৈঠক করতে চাওয়ার অভিযোগ তুলে মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয়রা। তারা আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও তার জামাতা হাবীবুল্লাহর বিরুদ্ধে মাদরাসার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবির বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দিনভর নানা গুঞ্জনের পর বিকালে হেফজাত আমিরের নিজ মাদরাসা জামেয়া বাবুনগরে শুরা কমিটির বৈঠক করেন। বৈঠকে মাওলানা আলমগীরকে মুহতামিম ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে মাওলানা হাবীবুল্লাহ'র বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংগঠনের যেকোনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই গ্রহণ করা হবে। প্রথমে বিষয়টি সংগঠনের ‘রাজনৈতিক সেলে’ বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা হবে, তারপর তা ‘কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’তে উপস্থাপন করা হবে। সেখান থেকে ‘কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মতামতও গ্রহণ করা হবে।

তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করতে হবে, তাদের ভাবনা ও মনোভাব বুঝতে হবে। সংগঠনের সিদ্ধান্ত যেন জনগণের চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—সে দিক বিবেচনায় রেখেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।