দক্ষিণ পূর্ব

উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৩২ দুপুর
পঠিত : ৩১
উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক

ছবি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। শিগগিরই এটি উদ্বোধন করে নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দর এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নিরাপদ ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে।

প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনের। এর দুই পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটপাত। মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে সাইকেল ট্র্যাক রাখা হয়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পৃথক সাইকেল লেন থাকায় আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়বে। পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আধুনিক নগর অবকাঠামো প্রয়োজন। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নিরাপদ সড়ক ও আন্তর্জাতিক মানের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে।

মেয়র আরও বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রী এ সড়ক ব্যবহার করেন। তাই বিমানবন্দর এলাকার সড়কব্যবস্থা নগরীর ভাবমূর্তি ও পর্যটন সম্ভাবনার সঙ্গেও জড়িত। এ কারণে এলাকাটিতে নান্দনিক, নিরাপদ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে সাইকেলভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, বিমানবন্দর সড়ক ও সমুদ্রসৈকত এলাকায় নিরাপদ সাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা তৈরি হলে পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। এতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যোগাযোগও উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, আধুনিক নগর পরিকল্পনায় সাইকেল লেন, নিরাপদ ফুটপাত, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো ও সবুজায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। চট্টগ্রামেও ধাপে ধাপে এ ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে নগরীতে পরিবেশবান্ধব বিকল্প যোগাযোগের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

মেয়র জানান, শুধু সড়ক নির্মাণ নয়, এর সঙ্গে পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করাও জরুরি। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও এ ধরনের সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।